শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র

৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেও ছয় বছর ধরে অচল

কামরুল হাসান, হবিগঞ্জ

৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেও ছয় বছর ধরে অচল

৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন জটিলতায় ছয় বছর ধরে অচল শাহজিবাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র। কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হওয়ার কথা ছিল, যার আর্থিক মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়মতো উৎপাদনে যেতে পারলে গত ছয় বছরে এ কেন্দ্র থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এ পর্যন্ত সরবরাহ হয়েছে মাত্র ৩৪ কোটি টাকার বিদ্যুৎ।

২০১৭ সালে হবিগঞ্জের শাহজিবাজারে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ৮৯০ কোটি টাকার কাজটি পায় চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না ক্যাবল করপোরেশন ইঞ্জিনিয়ারিং সিসিসিই লিমিটেড। আমেরিকান প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রনিক্সের এলএমএস-১০০ মডেলের অত্যাধুনিক অ্যারো-ডেরিভেটিভ গ্যাস টারবাইন বসানো হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষে উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চে কোভিড সংক্রমণ বাড়ায় জেনারেল ইলেকট্রনিক্সের লোকজন দেশে ফিরে যান। ফলে পিছিয়ে পড়ে কাজ।

বিজ্ঞাপন

শাহজিবাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ কে মফিজউদ্দিন আহমেদ জানান, করোনা মহামারি স্বাভাবিক হলে প্রায় এক বছর পর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চালু করলে প্লান্টের (আরটিআর) কেন্দ্রটি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর চলন্ত অবস্থায় গ্যাস টারবাইনের ব্লেড ভেঙে যায়। মেরামত শেষে ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর আবার চালু করা হয় কেন্দ্রটি। কিন্তু আবার দেখা দেয় যান্ত্রিক ত্রুটি। এবার পরিবর্তন করে আনা হয় ‘সুপার কোর মেশিন’। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবার উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টা চালায় কর্তৃপক্ষ। দুই মাস ভালোভাবে চলার পর ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল আবার প্লান্টের ব্লেড ভেঙে যায়। এরপর থেকে এভাবেই পড়ে আছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

এদিকে, চুক্তির শর্তানুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে মোট বিলের প্রায় ৭০ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে। তবে পিডিবি জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আটকে রাখা ১০ শতাংশ অর্থ সমন্বয় করা হবে, যার পরিমাণ প্রায় ৯০ কোটি টাকা।

প্রধান প্রকৌশলী বলেছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগ নিতে পারে। তিনি মনে করেন, সরকারি উদ্যোগে কেন্দ্রটি পরিচালিত হলে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মান্নান জানান, নির্ধারিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত সক্ষমতা দেখাতে না পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পিডিবি যেহেতু ইনভেস্ট করে ফেলছে, পেমেন্ট ৭০ ভাগ দেওয়া হয়ে গেছে। সে হিসাবে পিডিবি অবশ্যই এটা চালু করবে ।

এদিকে, বিদ্যুৎ প্লান্টের যন্ত্রাংশ মেরামত ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে কেন্দ্রটি মেরামতের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠান মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের জুন মাসের দিকে প্লান্টটি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...