সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামে পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে শতাধিক পরিবারের বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আকস্মিক ঢলের প্রবল স্রোতে অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, ভেসে গেছে ঘরের আসবাব ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে স্বজনের বাড়ি কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুনের জীবন যেন একের পর এক দুর্যোগের গল্প। কয়েক বছর আগে বজ্রপাতে স্বামীকে হারানোর পর পাথর ও কয়লার ডিপোতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে কষ্টে একটি ছোট্ট বসতঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সেই ঘরও বিধ্বস্ত হয়েছে। বর্তমানে ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে নতুন করে ঘর নির্মাণ তার কাছে এখন দুঃস্বপ্ন।
রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ঘর বানিয়েছিলাম। ঢলের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। নিজের একটা ঘরই এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া।’
একই ইউনিয়নের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলে তার বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বাধ্য হলেও এখনো ঘর পুনর্নির্মাণের কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না।’
বিউটি আক্তার বলেন, ‘ঢলের সময় প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে বের হয়ে আসতে হয়েছিল। পানি নেমে যাওয়ার পর ফিরে এসে দেখেন ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে নতুন করে ঘর নির্মাণ করতে পারবেন বলে আশা করছেন।’
স্থানীয়রা জানান, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও, বাঁশতলা, মাইঝহাটি, জঙ্গলবাড়ি, লাকমা, লালঘাট, চানপুর ও কলাগাঁও গ্রামে পাহাড়ি ঢলের কারণে শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বসতঘর বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ পরিবার এখনো প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ তাদের।
সুনামগঞ্জের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মেহদী হাসান হৃদয় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী দ্রুত তাদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

