চারপাশে অথৈ নদী, তবু পান করার মতো এক ফোঁটা পানি নেই। প্রায় ২০ বছর ধরে এক কলসি সুপেয় পানির জন্য তাদের পাড়ি দিতে হয় এক কিলোমিটার পথ। এমনই অমানবিক বাস্তবতায় দিন কাটছে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার লোকমানপুর গ্রামের ৩০টি পরিবারের।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের নারী-পুরুষ কলসি হাতে ছুটছেন পাশের বাহাদুরপুর গ্রামে। বর্ষায় নৌকায় আর হেমন্তে হাওরের কাদামাটি মাড়িয়ে পায়ে হেঁটে পানি আনতে হয় তাদের। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।
গ্রামের বাসিন্দা লোকমান মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এক কলসি পানির জন্য এক কিলোমিটার দূরে যেতে হচ্ছে। বছরের পর বছর এভাবেই চলছে। সরকারের কাছে গ্রামে দ্রুত নলকুপ স্থাপন করে সুপেয় পানি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
আরেক বাসিন্দা হাশেম মিয়া বলেন, ‘চারপাশে পানি থাকলেও খাওয়ার পানি নেই। সংশ্লিষ্ট অফিসকে অনেকবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি।
গৃহবধূ কুলসুম বেগম বলেন, প্রতিদিন দূর থেকে পানি এনে সংসারের কাজ করতে হয়। নারী ও শিশুদের খুব কষ্ট হয়। দুর্ভোগ লাগবে কেউ এগিয়ে আসেনি।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, দুই দশক ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু তাদের সংকট দূর হয় না।
এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকিনা আক্তার বলেন, ওই এলাকায় প্রকৃতপক্ষে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে কি না, তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরেজমিনে যাচাই করা হবে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

