স্বাধীনতার পর থেকেই বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ‘করতি খালে ’ ওপর সেতু স্থাপনের দাবি ছিল স্থানীয়দের। কিন্তু তাদের সেই দাবি পূরণ হয়নি। ৫৫ বছর আশ্বাসে আটকে থাকা সেতুটি নির্মাণ হয়নি। ফলে ১০ গ্রামের জনগণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।
অবশেষে সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচিত তরুণ সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এলাকাবাসীর স্বপ্ন পূরণ করতে উদ্যোগী হয়েছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচলকারী এলাকার ১০ গ্রামের মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে যাচ্ছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে আলীনগর ইউনিয়নের পাতন ও ফুলমলিক গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে করতি খালের উপর সেতু স্থাপনের লক্ষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৌশলীকে নিয়ে স্থানটি পরিদর্শন করেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। সেতুটি নির্মাণ হলে ওই ১০ গ্রামের জনজীবনের দুর্দশা কাটবে। বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ- দুটি উপজেলা সদরের সঙ্গেই সহজ হবে যাতায়াত।
সেতু স্থাপনের জায়গা পরিদর্শনকালে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের এই দাবিকে কোনো জনপ্রতিনিধি মূল্যায়ন করেননি। আশ্বাসেই আটকে ছিল আমাদের অতি প্রয়োজনীয় সেই দাবি। আমাদের ফুলমলিক, ঘাগওয়া, গোবিন্দশ্রী, দেউলগ্রাম, পাতন, চন্দ্রগ্রাম, কটলিপাড়া ও আঙ্গুরাসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে করতি খাল পাড়ি দিয়ে হাট বাজারে কাজে ও শিশুরা ও স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতেন। করতি খালের দুইপাশে ছয়টি প্রাথমিক ও তিনটি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ রয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থেদের ভয়ে ভয়ে প্রতিদিন সাঁকো পাড়ি দিতে হয়। মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এছাড়া কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, কিংবা মৃত্যু হলে গ্রামগুলোর মধ্যে আনা-নেয়া করাও কঠিন ছিল। এবার আমাদের দুর্ভোগ লাঘব হবে আশার করছি।’
স্থান পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন- মুফতি মাওলানা মুজিবুর রহমান, বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শাহাব উদ্দিন, ড. জুনায়েদ আজম চৌধুরী, এনাম উদ্দিন, রফিক উদ্দীন, সরফ উদ্দীন, ডাক্তার নাদিয়া সুলতানা, ইউপি সদস্য শামিম আহমদ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা আশরাফুল হক।
এর আগে তিনি গোলাপগঞ্জের কায়স্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সিলেট বিভাগে শিশুদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়ার প্রাদুর্ভাব’ শীর্ষক গবেষণামূলক কার্যক্রম ও মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাখেন। তিনি বলেন- বর্তমান সরকার দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সচেষ্ট রয়েছে। এরমধ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

