আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সুনামগঞ্জে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক

নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলেও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে ফসলডুবির শঙ্কা করছেন কৃষকরা। বিধি অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও মেয়াদের শেষদিন পর্যন্ত ৭৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে দেখিয়ে আরো ১৫ দিন সময় বাড়িয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্রের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন ও অনুমোদনে বিলম্ব এবং বিল পরিশোধে জটিলতার কারণে কাজে গতি আসেনি। নীতিমালা উপেক্ষা করে কিছু স্থানে গণশুনানি ছাড়াই প্রকল্প অনুমোদনের অভিযোগও রয়েছে। অক্ষত বা কম ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দ এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ তোলে স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৩ হাওরে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০২ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পাউবোর দাবি, মাটির কাজের প্রায় ৭৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে—অনেক প্রকল্পে কাজ ধীরগতিতে চলছে, কোথাও কোথাও অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্লোজার এখনো অরক্ষিত রয়েছে। জেলার দিরাই, শাল্লা, তাহিরপুর, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার একাধিক হাওরে একই চিত্র দেখা গেছে।

তাহিরপুর উপজেলার মাঠিয়ান হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, আলমখালী বাঁধে কিছু মাটি ফেলে রেখেছে প্রকল্প কমিটির লোকজন। বাঁধে নেই সাইনবোর্ড। কাজ বন্ধ হয়ে আছে। স্থানীয় কৃষক নুর আলম বলেন, এ বাঁধের ওপর মাঠিয়ান হাওরের শত শত একর জমির ফসল নির্ভর করে। গুরুত্বপূর্ণ এ বাঁধটিকে অবহেলা করা হচ্ছে। বাঁধের কাজ ঠিকমতো করা হচ্ছে না। যেকোনো সময় পাহাড়ি ঢল নামলে ফসল তলিয়ে যাবে।

তাহিরপুর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, এ বাঁধের কাজ কেউ নিতে চায় না। কিছুদিন আগে একজনকে কাজ দিয়েছি। মাটি সংকটের কারণে কাজ আটকা আছে। আশা করি দ্রুত কাজটি শেষ করতে পারব।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কাগজে অগ্রগতি দেখানো হলেও বাস্তবে কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। এতে আগাম বৃষ্টি বা আকস্মিক বন্যায় বোরো ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলন, সুনামগঞ্জ পরিবেশ ও নদী রক্ষা আন্দোলন ও জন উদ্যোগসহ বিভিন্ন সংগঠন হাওর পরিদর্শন করে কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ শেষ না হলে, হাওরের বোরো ফসল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, নির্বাচনজনিত কারণে বাঁধের কাজের কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

হাওরের কৃষকরা বলছেন, সুনামগঞ্জের বোরো ফসল পুরোপুরি নির্ভর করছে ফসলরক্ষা বাঁধের ওপর। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। সময়মতো কাজ সম্পন্ন না হলে, আগাম বন্যায় ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা করছেন তারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন