কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাক চালক ও হেলপারকে গাছের সাথে বেঁধে ১০টি গরু নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বালুজুড়ি ও ফেলনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় ট্রাক চালক আকরাম হোসেন ও হেলপার দেলোয়ার হোসেন আহত হয়। সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
জানা গেছে, বুধবার রাজশাহীর চারঘাট বাজার থেকে ১০টি গরু বোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকামেট্রো-ঢ-১২-৩৮০০) চট্টগ্রামের মদিনা ঘাটের উদ্দেশে রওয়ানা করে। বৃহস্পতিবার ভোরে ট্রাকটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বালুজুড়ি নামক স্থানে পৌঁছলে ৮-১০ জনের একদল ডাকাত পিছন থেকে গরু বোঝায় ট্রাকটি ধাওয়া করে ব্যারিকেড দেয়। সংঘবদ্ধ ডাকাতদল চালক আকরাম হোসেনকে কুপিয়ে আহত করে ট্রাকটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে ডাকাতদল ট্রাকটি উপজেলার চৌদ্দগ্রাম-লাকসাম আঞ্চলিক সড়কের ফেলনা এলাকায় নিয়ে চালক আকরাম হোসেন ও হেলপার দেলোয়ার হোসেনকে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। ওই সময় ডাকাতদল তাদের নিজস্ব একটি পিকআপে ১০টি গরু নিয়ে চলে যায়। ভোরবেলায় স্থানীয়রা খালি ট্রাক চালক ও হেলপারকে গাছে বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুইজনকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে।
ট্রাক চালক আকরাম হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৩টায় চৌদ্দগ্রামের বালুজুড়ি নামক স্থানে পৌঁছলে পেছন থেকে একটি পিকআপ ভ্যান এসে আমাদের গরু বহনকৃত ট্রাকটির সামনে দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এসময় ৮/১০ জনের একদল ডাকাত দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে কুপিয়ে ট্রাকটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরবর্তীতে তারা ফেলনা এলাকায় গিয়ে আমাকে ও হেলপার দেলোয়ারকে গাছের সাথে বেঁধে গরুগুলো তাদের ব্যবহৃত পিকআপে করে নিয়ে চলে যায়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে সকাল বেলায় ফেলনা গ্রাম থেকে দুই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং খালি ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পরই পুলিশ ডাকাতদলকে শনাক্ত ও লুট হওয়া গরুগুলো উদ্ধার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

