সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলহের জেরে তামান্না আক্তার জলি (২৬) নামে এক গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল রোববার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের নিউমার্কেট কাঁঠালখাই (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে বাবার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত তামান্না আক্তার জলি ওই গ্রামের আব্দুল মজিদ ও নাসিমা বেগম দম্পতির মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে জগন্নাথপুর উপজেলার আলমপুর গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে মারুফ আহমেদের (৩২) সঙ্গে তামান্না আক্তার জলির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আয়াত বেগম নামে ১৩ মাস বয়সি একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর তার স্বামী সৌদি আরবে চলে যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোবাইল ফোনে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একাধিকবার বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসাও করা হয়। সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হলে গত ছয়-সাত দিন আগে জলি তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
ঘটনার দিন সারা দিন মোবাইল ফোনে স্বামীর সঙ্গে জলির তুমুল বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে জলি শোয়ার ঘরের চালের তীরের লোহার আংটার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। এ সময় তার ১৩ মাস বয়সি শিশুসন্তান চিৎকার করে উঠলে বাবা আব্দুল মজিদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা দৌড়ে ঘরে যান। তারা জলিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট জেলার গোয়ালাবাজারস্থ ডাক্তার ইকবাল মাহমুদের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে স্বজনেরা মরদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে এনে জগন্নাথপুর থানার পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

