ছাতকে এক বছর পর কংক্রিট স্লিপার প্লান্টের উৎপাদন কার্যক্রম চালু

ছাতকে এক বছর পর কংক্রিট স্লিপার প্লান্টের উৎপাদন কার্যক্রম চালু

সুনামগঞ্জের ছাতকে এক বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার প্লান্টের উৎপাদন কার্যক্রম চালু হয়েছে । এই প্লান্টে গত রোববার থেকে পুরোদমে শুরু হয় স্লিপার উৎপাদন।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন পর কারখানাটিতে উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল হওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্লান্ট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।

রেলওয়েসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছাতকের এই প্লান্ট দীর্ঘদিন ধরেই যান্ত্রিক ত্রুটি, কাঁচামালের তীব্র সংকট ও জনবলের ঘাটতিসহ নানান জটিলতায় জর্জরিত ছিল। এসব সমস্যার কারণে ইতিপূর্বেও একাধিকবার কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত ও বন্ধ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরের প্রলয়ংকরী বন্যার পানিতে প্লান্টটি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হওয়ায় এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেশিনারিজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মূলত বন্যাদুর্গত মেশিনারিজ মেরামত এবং ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতেই সময় গড়িয়ে কারখানা চালু করতে দীর্ঘ বিলম্ব হয়।

ইতিপূর্বে গত বছরেও কয়েক দফায় প্লান্টটিতে উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও যান্ত্রিক ত্রুটি ও কাঁচামাল সংকটে অল্প সময়ের ব্যবধানে তা আবারও অচল হয়ে পড়েছিল।

উল্লেখ্য, রেললাইনকে আরও মজবুত, টেকসই ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে ১৯৮৮ সালে দৈনিক ২৬৪টি কংক্রিট স্লিপার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে ছাতকে এই সরকারি কারখানাটির যাত্রা শুরু হয়। কাঠের স্লিপারের তুলনায় কংক্রিটের স্থায়িত্ব বহুগুণ বেশি হওয়ায় রেলপথে এর ভূমিকা অপরিসীম। মূলত এই প্লান্টে উৎপাদিত স্লিপার বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠার পর ২০০০ সাল পর্যন্ত কারখানাটি স্বাভাবিক গতিতে চললেও ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০২০ সালেও বিভিন্ন মেয়াদে বন্ধ ও সচল হওয়ার মধ্য দিয়ে দিন পার করেছে।

বর্তমানে বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্লান্টটির উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। নতুন করে চালুর পর আগামী এক বছরে প্রতি সপ্তাহে ৬ দিন ২৪০টি করে মোট ২৫ হাজার কংক্রিট স্লিপার উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে পঞ্চগড়, বাংলাবান্ধা ও জামালপুরে বেসরকারি খাতে বেশ কয়েকটি স্লিপার প্লান্ট গড়ে ওঠায় সেখান থেকেও স্লিপার সংগ্রহ করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠে এসেছে।

উৎপাদন শুরুর পর গত রবিবার কারখানাটি পরিদর্শন করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন ও রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, বন্যার পানিতে প্লান্টটি তলিয়ে যাওয়ায় মেশিনারিজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। যন্ত্রাংশ মেরামত ও পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া শেষ করতেই সময় লেগেছে। এখন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে উৎপাদন শুরু করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় মেরামতকাজ শেষ করে প্লান্টটি পুনরায় চালু করেছে। আশা করা যাচ্ছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সপ্তাহে ছয় দিনই নিরবচ্ছিন্ন স্লিপার উৎপাদন সম্ভব হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন