কমেছে ডিম ও সবজির দাম, স্থিতিশীল চালের বাজার

স্টাফ রিপোর্টার

কমেছে ডিম ও সবজির দাম, স্থিতিশীল চালের বাজার

ঈদের আগে দাম বেড়েছিল চালের। সরকারের চাপে তা এখন স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় সবজি, ডিম ও ফরিদপুর অঞ্চলের পেঁয়াজের দাম আরো কমেছে। বিপরীতে সানফ্লাওয়ার, রাইসব্র্যান্ড ও সরিষা ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে।

গত বৃহস্পতিবার কারওয়ানবাজার, নয়াবাজার ও কেরানীগঞ্জের বউবাজারসহ রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

খুচরা ব্যবসায়ী আপুল মিয়া বলেন, আদা রসুনের দাম স্থিতিশীল থাকলেও ফরিদপুর অঞ্চলের পেঁয়াজের দাম কমে এখন প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে পাবনা অঞ্চলের পেঁয়াজ আগের দাম কেজিতে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদি ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন বাবলু বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় ময়দার দাম কিছুটা বেড়ে দুই কেজির ময়দার প্যাকেট ১৪০ টাকা, আমদানি করা সূর্যমুখী ভোজ্যতেলের মধ্যে সানফ্লাওয়ার পাঁচ লিটারে ২০০ টাকার মতো বেড়ে এক হাজার ৮০০ টাকায়, কিংস ৩০০ টাকা বেড়ে এক হাজার ৭০০ টাকায় এবং রাইসব্র্যান্ড ৬০ টাকা বেড়ে এক হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লবণের বস্তায় ১০০ টাকা, কাজুবাদাম ও কিশমিশের কেজিতে ২০০ টাকা করে বেড়েছে।

কারওয়ানবাজারের সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম আমার দেশকে বলেন, সরবরাহ বেড়ে আগের সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম আরো কমেছে। এখন উৎপাদন বেড়ে বাজারে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম নিম্নমুখী হয়েছে।

রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগের তুলনায় কোনো কোনো সবজির দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। বাজার ও এলাকাভেদে কিছুটা দামে পার্থক্য থাকলেও বর্তমানে বেশির ভাগ সবজির দাম ৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে কাঁচা পেঁপের দাম। ঈদের আগের ১০০ টাকার পেঁপে এখন ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচের দামও কমে ৪০ থেকে ৬০ টাকা হয়েছে।

তবে সবজির মধ্যে আলুর দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে আরো পাঁচ টাকা বেড়ে এখন ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে তা ছিল ২০ টাকা। অমৌসুমি সবজি টমেটোর দাম বেশ বাড়তি দেখা গেছে। প্রতি কেজি টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির সঙ্গে সঙ্গে কমেছে ডিম ও মুরগির দাম। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা ও লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ডিম ডজনপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য পাড়া-মহল্লার দোকানে তা আরেকটু বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি, ডিম ও মুরগির দাম কমলেও প্রকারভেদে মাছের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের । তবে কিছুদিন পর মাছের সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে জানান তিনি । এছাড়া গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে ঈদের আগে চালের দাম বাড়ার পর এখন তা স্থিতিশীল রয়েছে জানান বিক্রেতারা। তেজগাঁও এলাকার চাঁদপুর রাইস এজেন্সির বাচ্চু মিয়া বলেন, ঈদের আগের তুলনায় চালের দাম কেজিপ্রতি ৮-১০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন স্থিতিশীল রয়েছে। সরকারের চাপে করপোরেট কোম্পানিগুলো এখন চুপচাপ রয়েছে; সুযোগ বুঝে তারা দাম বাড়াতে পারে।

তেজগাঁও এলাকার জনতা রাইস এজেন্সিসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার আগেই চালের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। দাম বেড়ে যাওয়ার পর এখন স্থিতিশীল রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের জানান, বাজার অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কিছু মিল মালিক বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করেছিলেন। তবে বাজারে সেই উদ্যোগের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি এবং পরবর্তী সময়ে দাম আবার কমে এসেছে।

বাজারে চাল ছাড়াও ভোগ্যপণ্যের মধ্যে আটা-ময়দার দামও কেজিতে পাঁচ টাকার মতো বেড়ে বর্তমানে দুই কেজির আটার প্যাকেট ১২০ ও ময়দা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিনির দাম পাঁচ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ২০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকা, ছোলা ১০ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকা, খেসারি ও বুটের ডাল ১০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, দেশি মুগডাল ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা, মোটা মুগডাল ২০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, গুঁড়া হলুদ ও মরিচ ১০০ টাকা বেড়ে ৩৫০ ও ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সদ্যঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে চাল, ডাল, তেল ও পেঁয়াজসহ অন্তত ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এসব পদক্ষেপের ফলে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে থাকবে এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...