ঋণ জালিয়াতিতে আলোচিত আরও পাঁচ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকে (এমডি) বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তর্জাতিক অডিট ফার্মের পরামর্শে তাদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার ৫টি ব্যাংকের চেয়াম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে এই নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
ব্যাংকগুলো হলো- বেসরকারি খাতের এক্সিম, গ্লোবাল ইসলামী, এসআইবিএল, আইসিবি ইসলামিক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এর আগে গত শনিবার জরুরি সভা ডেকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের এমডি সৈয়দ ওয়াসিক মো. আলীকে তিন মাসের ছুটিতে পাঠায় পরিচালনা পর্ষদ। এ সময়ে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পালন করবেন ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা বলেন, ‘ছয়টি ব্যাংকের এমডি ছুটিতে থাকবে সব ব্যাংকের পর্ষদের সিদ্ধান্ত। এসব ব্যাংকের অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউর আওতায় আনা হবে। এখানে যাতে এমডিরা অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে না পারে তাই তাদের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। অডিটে যদি তাদের বিষয়ে কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া না যায় তাহলে পুনরায় এসে যোগদান করতে পারবেন। আর যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এসব করা হচ্ছে।’
বৈঠক শেষে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় থার্ড পার্টি হিসেবে দুটি নিরীক্ষা দল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের অডিটের সময় যাতে এমডিরা কোন বিঘ্ন সৃষ্টি না করে সেই জন্য এই সময়ে তারা অনুপস্থিত থাকবেন। অডিট শেষে ব্যাংকের এমডিরা আবার ফিরেও আসতে পারে। ছোটখাটো দোষ বিবেচনায় যদি অডিট কমিটি মনে করে ব্যাংকের এমডিদের পুন:র্নিয়োগ দেওয়া হবে তাহলে তারা ফিরে আসবেন।’
ইতিমধ্যে এক্সিম ব্যাংকের মোহাম্মদ ফিরোজ হোসনকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে জসিম উদ্দিনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান।
বৈঠক শেষে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাঁচটি ব্যাংকের অডিট করার জন্য আন্তর্জাতিক দুটো অডিট ফার্মকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি কেপিএমজি অন্যটি আর্নেস্ট ইয়াং। দুটো প্রতিষ্ঠান ব্যাংকগুলোর অডভান্স কোয়ালিটি রিভিউ (অ্যাকিউআর) কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এমডিদের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠান ঋণ অনিয়ম সময় যারা ছিল তাদের উপস্থিতি অডিটের সময় চায় না।’
কোন এমডির সংশ্লিষ্টতা ছাড়া কোন ঋণ বোর্ডে উপস্থাপন হয় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সব কিছুই ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা জানেন। তবে তাদের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হবে নিরীক্ষা জমা দেওয়ার পর। জড়িত না থাকলে তারা পুনরায় ফিরে আসবে। জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তথ্য অনুযায়ী, যে ছয়টি ব্যাংকের এমডিকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে, এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এস আলম গ্রুপ পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ছিল। গণ-অভুত্থ্যানে পালিয়ে যাওয়ার পর এসব ব্যাংক থেকে এস আলমের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের ডজখানেক ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নামে–বেনামে কয়েকটি গ্রুপ বের করে নিয়ে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বেশিরভাগই নিয়েছেন এস আলম গ্রুপ। এস আলমসহ যেসব গ্রুপ অর্থ ব্যাংক থেকে নিয়েছে তা ব্যাংকে ফেরত আসছে না, ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

