পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছাড়াই চলছে দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির এমডির পদ শূন্য তিন মাসের বেশি সময় ধরে। অথচ আইন অনুযায়ী এই পদ শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে পূরণ করার বিধান রয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে এতদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে চলছে ব্যাংকটি। দুপক্ষের দ্বন্দ্বে এসব নিয়োগ আটকে আছে বলে জানা গেছে। এতে করে ব্যাংকটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। গ্রাহকদের ওপর যার প্রভাব পড়ছে।
এদিকে, এস আলমের সময় করা নিয়মের কারণে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা চুক্তিভিত্তিক হিসেবে কর্মরত আছেন। পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ না থাকায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত এমডিসহ আট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও আটকে আছে।
বর্তমানে পর্ষদের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জহির হোসেনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকটিতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
জানতে চাইলে পর্ষদের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন বলেন, ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ নেই। আমি পর্ষদের একটা অংশ মাত্র। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ পর্ষদের প্রয়োজন হয়।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন এভাবে চললে ব্যাংকের আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা আরো বাড়তে পারে। তাই দেশের চলমান সংকটে ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হলে অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।
জানা গেছে, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে পদত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরপর জুনের শুরু থেকেই ব্যাংকটিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়। গ্রাহকদের বিক্ষোভ, আন্দোলন ও আমানত তুলে নেওয়ার কারণে ব্যাংকটি তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল আলোচনা হয়।
সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শেষ পর্যন্ত গত ১৪ জুন ব্যাংকটির পুরো পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে দেয়।
একই দিন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেনকে। এরপর থেকে প্রায় তিন মাস ধরে ব্যাংকটির যাবতীয় সিদ্ধান্তের দায়িত্ব তার ওপর রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না বলে ব্যাংকটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
নিয়ম ভঙ্গ তবু এমডি নিয়োগ দিচ্ছে না
এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের নিয়মিত এমডি পদও প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে শূন্য। এর আগে ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খান দায়িত্বে ছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল তৎকালীন বোর্ড তাকে ছুটিতে পাঠায়। ছুটি শেষ হলেও তিনি ব্যাংকে যোগদান করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে পদত্যাগ করেন।
এরপর আর নতুন করে নিয়মিত এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অথচ ব্যাংক কোম্পানি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, এমডির পদ দীর্ঘসময় শূন্য রাখার সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতেও বর্তমান পর্ষদে দায়িত্ব পালন করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকে এমডি পদ শূন্য হলে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি এমডির সার্বিক দায়িত্ব পালনে দায়বদ্ধ। তবে এমডি পদে তিন মাসের বেশি কোনোভাবেই শূন্য রাখা যাবে না। তিন মাসের বেশি শূন্য থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে।
শীর্ষ কর্মকর্তাদের মেয়াদ শেষ, হচ্ছে না নবায়ন
সরকারি চাকরিবিধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত চাকরির বয়সসীমা ৬০ বছর পর্যন্ত। আর ৬৫ বছর পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত থাকতে পারে।
তবে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান করা হয়। এতে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
বর্তমানে ওই ব্যবস্থা বহাল থাকায় একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। মেয়াদ শেষ হওয়া কর্মকর্তারা পুনর্নিয়োগের জন্য আবেদন করলেও তাদের বিষয়ে বর্তমানে পর্ষদের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরো কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের তিন কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদারের চাকরির মেয়াদ গত ১১ সেপ্টেম্বর, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আলম এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিনুর রহমানের চাকরির মেয়াদ ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাদের বিষয়ে পুনর্নিয়োগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে আটজনকে পুনর্নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে ব্যাংকটি। যদিও এসব পর্যায়ে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে বোর্ডের অনুমোদন নিলেই হয়। তবে চলমান পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে তা পাঠানো হয়েছে।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে নানা ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেয়। যেসব পরিকল্পনা শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বাস্তবায়ন শুরু করে। এতে ব্যাংকটি অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।
তবে নতুন পর্ষদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাংকে আবারও অস্থিরতা শুরু হলে ব্যাপক আকারে আমানত উত্তোলন হয়। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা নিয়ে ব্যাংক টিকে থাকার চেষ্টা করে। বর্তমানে উত্তোলন থামলেও নতুন করে ব্যাংকের ব্যবসা-বাণিজ্য অগ্রগতি নেই বললেই চলে। শুধু আমানত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটি তো একটি ব্যাংকের মূল কাজ হতে পারে না।
অন্যদিকে, যারা ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে তাদের মেয়াদ শেষ হলেও বাড়ানো হচ্ছে না। এতে করে ব্যাংকটি নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
করপোরেট গ্রাহকদের সিদ্ধান্তেও স্থবিরতা
ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এখনো কয়েকশ পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এলসি খোলা এবং চলতি মূলধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন পাচ্ছে না।
কেউ কেউ এলসি খুলতে গিয়ে বিলম্বের মুখে পড়ছেন। এতে ব্যাংকের দীর্ঘদিনের ভালো গ্রাহকদের একটি অংশও ব্যবসায়িক ঝুঁকিতে পড়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বড় শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, আমার চারটি গার্মেন্টের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও এলসি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে যেসব কর্মকর্তা আমার ফাইল দেখতেন, তারাও নিজেদের অসহায় বলে জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এমনিতেই গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়ায় চাপ আরো বেড়েছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে যাবে। বেতন না পেলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে পারেন, যা সরকারের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।
ব্যাংকটির করপোরেট বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বড় করপোরেট গ্রাহকদের ঋণসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়মিত প্রক্রিয়ায় এগোলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে গিয়ে আটকে যাচ্ছে। ঋণ নবায়ন, সীমা বাড়ানো, নতুন ঋণ সুবিধা, বড় অঙ্কের আমদানি-রপ্তানি অর্থায়নসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ না থাকায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের অস্থিরতার খবর নানা মাধ্যমে বিদেশি ব্যাংকগুলোর কাছে যাচ্ছে। এতে করে এলসি খোলায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ও এমডি থাকলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। কিন্তু এখন সেটি সম্ভব হচ্ছে না।
উদ্যোগ নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
ইসলামী ব্যাংকের আগের পর্ষদ তিন মাস আগে ভেঙে দেওয়া হলেও নতুন বোর্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ পর্যায় থেকে ব্যাংকটির বোর্ড দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
পর্ষদ ও এমডির নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, তিন মাসের বেশি এমডি পদ শূন্য থাকার নিয়ম নেই। শূন্য হলে প্রশাসক বসানোর নিয়ম। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌক্তিক কারণ থাকলে সেটি বাড়িয়ে দিতে পারে। আর এখন যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের লোক রয়েছে, তাই প্রশাসক দেওয়া ঠিক হবে না।
তিনি আরো বলেন, পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ দেওয়ার জন্য যোগ্য লোক খোঁজ করা হচ্ছে। সেটি পেলেই পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ দেওয়া হবে।
আর্থিক সূচকও নিম্নমুখী
অন্যদিকে, নতুন করে তৈরি হওয়া অস্থিরতার সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ব্যাংকের আমানতে। আমানত ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা থেকে নেমে আসে ১ লাখ ৬১ হাজার টাকায়।
অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের আয়-ব্যয়ের হিসাবেও। প্রথম ছয় মাসে পরিচালন লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ২৮৫ কোটি টাকায়। ব্যাংকের সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হয়ে আছে খেলাপি ঋণ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকায়। এটি ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫২ শতাংশ এবং দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা থাকলে একটি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে করপোরেট গ্রাহকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সেবা প্রত্যাশা করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে তারা বিকল্প ব্যাংকের দিকে ঝুঁকতে পারেন। যা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসার জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

