আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১২ দফা ইশতেহার সম্মিলিত পরিষদের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১২ দফা ইশতেহার সম্মিলিত পরিষদের

বিজিএমইএ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক শিল্পের সামনে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যে পৌঁছাতে ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে সম্মিলিত পরিষদ। বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা দেন সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার মো. আবুল কালাম।

বিজ্ঞাপন

১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু প্যানেল লিডার নই—আপনাদের সহকর্মী, পোশাক শিল্পের একজন অংশীদার।’ তিনি পোশাক শিল্পের সূচনা ও সাফল্যের ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, মাত্র ১২ হাজার ডলারের রপ্তানি দিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক।

ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য ১২টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে এসএমই সাপোর্ট সেল গঠন করা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার জন্য নীতিগত, আর্থিক ও কাঠামোগত সহায়তায় ‘এসএমই সাপোর্ট সেল’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মো. আবুল কালাম বলেন, তারা ভ্যাট, এইচএস কোড, অর্ডার বাতিল, বিলম্বিত পেমেন্ট ও চুক্তি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসনে সরকারের সঙ্গে কাজ করবেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানী নিরাপত্তা সংকটকালে বিকল্প প্রণোদনার দাবি জানিয়ে আবুল কালাম বলেন, শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে উৎপাদন মৌসুমে গ্যাস-বিদ্যুতের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ প্রস্তুতি ও গ্রিন ফান্ডিং ডেস্ক চালুর দফার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সম্মিলিত পরিষদ পোশাক শিল্পের শ্রমিক ও ব্যবস্থাপকদের জন্য এআই, আইওটি, ইআরপি, ইএসজি ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। আবুল কালাম বলেন, সবুজ অর্থায়নের জন্য ‘গ্রিন ফান্ডিং ডেস্ক’ গঠন করে জিসিএফ, আইএফসিসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রাপ্তিতে তারা সহায়তা করবেন।

মার্কেট এক্সপ্যানশন ডেস্ক গঠন করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় বাজার সম্প্রসারণ ও ইউরোপ-আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক বাণিজ্য সংস্থা ও চেম্বারগুলোর সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষর, বিটুবি মিশন, এক্সপো ও সোর্সিং ফেয়ার-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার সম্ভাবনাময় বাজারে প্রবেশ নিশ্চিত করব। ইউরোপ ও আমেরিকার অতিনির্ভরতা কমিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ঝুঁকি হ্রাস করব।’

ইপিবি, বিদেশি মিশন ও প্রবাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন ক্রেতা সংযোগ এবং সিনথেটিক, ব্লেন্ড ও আউটারওয়্যার পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন পণ্যে প্রবেশ ও উচ্চ প্রবৃদ্ধির বাজারে অবস্থান সুদৃঢ় করবে।

শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়া ঠেকাতে স্মার্ট রাজস্ব নীতি ও প্রণোদনার মাধ্যমে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও মজুরি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আবুল কালাম বলেন, ‘এই নীতি স্মার্ট রাজস্ব ব্যবস্থা, ক্রেতা-সহযোগিতা ও খাতভিত্তিক সহায়তার মাধ্যমে সব ধরনের কারখানা—বিশেষ করে এসএমই—কে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সহায়তা করবে।’

বন্ড সুবিধা, গ্রিন চ্যানেল চালু, সোর্স ট্যাক্স হ্রাসসহ কাস্টমস-বন্ড-ভ্যাট ব্যবস্থার যুগোপযোগী সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। রপ্তানিতে নতুন উদ্যোক্তা, নারী নেতৃত্ব ও এসএমই-দের জন্য তথ্যনির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা কাঠামো চালু করা হবে। তিনি বলেন, বিজিএমইএতে রেজিস্ট্রেশন, কাস্টমস ও ডকুমেন্টেশনে সহায়তা, রপ্তানি প্রস্তুতি ডেস্ক, বাজার, ক্রেতা মানদণ্ড ও ট্রেন্ডস বিশ্লেষণে নীতিনির্ধারণ পর্যবেক্ষণ সেল, উৎপাদন দক্ষতা পরিমাপ ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে ডিজিটাল ফ্যাক্টরি টুলস এবং প্রযুক্তি গ্রহণে প্রতিষ্ঠানের জন্য কাস্টম গাইডলাইন দিতে স্মার্ট ফ্যাক্টরি রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।

কালাম বলেন, বিভিন্ন ক্রেতা অডিট একত্র করে একটি একক নীতিমালা তৈরি করা হবে যাতে এসএমই কারখানার কমপ্লায়েন্স সহজ হয়। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সংকট ব্যবস্থাপনার জন্য শ্রমিক সেবা ফান্ডে বাধ্যতামূলক মাসিক সঞ্চয় ব্যবস্থা করা হবে। সার্কুলার ইকোনমি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিকার্বনাইজেশনের জন্য কারখানাভিত্তিক রোডম্যাপ ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো হবে।

বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের কথা জানিয়ে আবুল কালাম বলেন, বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ে প্রিমিয়াম পণ্যের প্রচারণা, ডিজাইন-ভিত্তিক প্রদর্শনী ও ভিজ্যুয়াল ব্র্যান্ডিং সাপোর্টে আমরা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ – প্রিমিয়াম এডিশন’ নামে একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং ক্যাম্পেইন চালু করব, যেখানে বাংলাদেশকে কেবল সস্তা উৎপাদনের দেশ নয়, বরং আধুনিক, টেকসই ও মূল্যনির্ভর সোর্সিং ডেস্টিনেশন হিসেবে পরিচিত করা হবে।

প্রিমিয়াম ক্রেতাদের জন্য কাস্টমাইজড কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার, সদস্যদের জন্য ব্র্যান্ড বিল্ডিং সাপোর্ট – ফটোশুট, ক্যাটালগ, ভার্চুয়াল শোরুম তৈরি করা এবং হাই-এন্ড নিটওয়্যার, আউটারওয়্যার ও সার্কুলার কালেকশন নিয়ে ডিজাইন-ভিত্তিক প্রদর্শনী করা হবে।

এছাড়া অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সম্মিলিত পরিষদের নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক ফারুক হাসান তাদের নেতৃত্বে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য তাদের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ হাসনাত আলম সামগ্রিক অর্থনীতি ও তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন