দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সমন্বিত নির্দেশনা হালনাগাদ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে কাগজবিহীন বাণিজ্য, ডিজিটাল ট্রেড ডকুমেন্ট, বিকল্প ট্রেড ফাইন্যান্স এবং সেবা ও ই-কমার্সভিত্তিক রপ্তানিকে উৎসাহ দিতে একাধিক নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জন্য পৃথক অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সমন্বিত সার্কুলার জারি করা হয়। এটি আগামী এক বছরের জন্য রপ্তানি-সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন, ডিজিটাল বাণিজ্যের বিস্তার এবং রপ্তানির নতুন নতুন খাতের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান নীতিমালায় প্রয়োজনীয় পরিমার্জন আনা হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি-সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সব নির্দেশনা একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
সার্কুলারে ডকুমেন্টারি কালেকশনের আওতায় রপ্তানি দলিল ইলেকট্রনিকভাবে উপস্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদিত ট্রেড করিডরের মাধ্যমে ডকুমেন্টারি কালেকশন ও এলসি ব্যবস্থায় ডিজিটাল ট্রেড ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি পাইলট কাঠামো চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্সসহ বিকল্প ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থার জন্য পৃথক ফ্রেমওয়ার্ক যুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অর্থায়নের বিকল্প উৎস ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে এবং রপ্তানিকারকদের অর্থায়ন আরও সহজ হবে।
নতুন নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিয়ে পৃথক অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলে অর্জিত রপ্তানি আয় দ্রুত ও সহজে দেশে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


