পাঁচ সপ্তাহে ৬৫০ বিলিয়ন ডলার খোয়ালেন মাস্ক, ছুটে গেল প্রথম ট্রিলিয়নিয়রের মুকুট

পাঁচ সপ্তাহে ৬৫০ বিলিয়ন ডলার খোয়ালেন মাস্ক, ছুটে গেল প্রথম ট্রিলিয়নিয়রের মুকুট
ছবি: সংগৃহীত।

ছয় সপ্তাহ আগে ইলন মাস্ক ছিলেন সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। গত ১২ জুন স্পেসএক্স তার প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সম্পন্ন করে। এর তিনদিন পর স্পেসএক্সের বাজার মূলধন সর্বকালের সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে মাস্কের কাগুজে মুদ্রার পরিমাণ সর্বোচ্চ প্রায় ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার স্পর্শ করে।

তবে ২৩ জুলাই বাজার বন্ধ হওয়ার সময় ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স তার সম্পদের পরিমাণ হিসাব করেছে প্রায় ৭৩৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ সপ্তাহের ব্যবধানে তার প্রায় ৬৫০ থেকে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের কাগুজে সম্পদ কর্পূরের মতো উড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

একই সময়ে দুটি ভিন্ন শেয়ারের দরপতনে তার এই বিশাল ক্ষতি হয়। অবশ্য এরপরও তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে নিজের স্থান ধরে রেখেছেন এবং তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তির চেয়ে প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন ডলার বেশি সম্পদ তার দখলে। খবর ইয়াহু ফাইন্যান্সের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিহাসের বৃহত্তম আইপিও হিসেবে বাজারে আসে স্পেসএক্স । শেয়ারবাজারও শুরুতে তাকে সেই অনুযায়ী পুরস্কৃত করেছিল। শেয়ারের দাম আইপিও-র নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক উপরে লেনদেন হতে থাকে। ফলে রকেট ও স্যাটেলাইট নির্মাতা এই জায়ান্ট কোম্পানির মূল্যায়ন মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু ১৬ জুনের সেই সর্বোচ্চ চূড়া থেকে ২৩ জুলাই বাজার বন্ধ হওয়া পর্যন্ত স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে গেছে। ফলে শেয়ারের দাম ২০১ দশমিক ৮০ ডলার থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ১১৮ দশমিক ২৪ ডলারে। বর্তমানে এর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৮৯৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, কোম্পানিটি তার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাজার মূল্য হারিয়েছে।

এই পতনের অনুঘটকগুলো একের পর এক এসেছে। গত ১৬ জুলাই স্টারশিপ রকেট উৎক্ষেপণে বিলম্বের খবরটি বর্ধিত সময়ের লেনদেনে শেয়ারের দামে বড় আঘাত হানে। এরপর আইপিও ঘিরে তৈরি হওয়া প্রাথমিক উন্মাদনাও ফিকে হয়ে আসে। সেই সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অতিমূল্যায়নের বিষয়টি নিয়ে পুরো শেয়ারবাজারে নতুন করে পুনর্বিবেচনা শুরু হয়। এরপর ২১ জুলাইয়ের মধ্যে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ১২০ ডলারের নিচে নেমে যায়, যা টানা সাতটি সেশনে পতনের পর এর আইপিও মূল্যের চেয়েও কম। রিটেল ফোরামগুলোতে উদ্ধৃত রেডিট ব্যবহারকারীদের আলোচনা অনুযায়ী, শেয়ারের এই দরপতনের ওপর বাজি ধরে শর্ট সেলাররা প্রায় ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার লাভ করেছে।

মাস্কের সম্পদ হ্রাসের দ্বিতীয় ধাক্কাটি এসেছে টেসলা থেকে। গত ২২ জুলাই বাজার বন্ধের পর টেসলা তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রান্তিকে তাদের আয় হয়েছে ২৮ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার, যা পূর্বাভাসের চেয়ে ৭ দশমিক ১০ শতায়শ বেশি এবং কোম্পানিটি রেকর্ড ৪ লাখ ৮০ হাজার ১২৬টি গাড়ি সরবরাহ করেছে। তবে আসল সমস্যাটি লুকিয়ে ছিল কোম্পানির মোট আয়ের নিচের লাইনে অর্থাৎ প্রকৃত মুনাফায়।

নন-জিএএপি অনুযায়ী, প্রতি শেয়ারে আয় এসেছে শূন্য দশমিক ৩৩ ডলার, যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল শূন্য দশমিক ৫৩৬৭ ডলার। অর্থাৎ এটি পূর্বাভাসের চেয়ে ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ কম। এছাড়া বার্ষিক ভিত্তিতে পরিচালন আয় ৫৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে মাত্র ৩৯৮ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। কোম্পানির পরিচালন মার্জিন ছিল মাত্র এক দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে মূলধনী ব্যয় ১৪১ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোয় নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ১ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে।

কোম্পানির বার্ষিক পরিচালন ব্যয় ৪৭ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বিশাল ব্যয়ের পেছনে রয়েছে এআই, রোবোট্যাক্সি, অপটিমাস ও ডোজোর পেছনে টেসলার খরচ এবং এর সঙ্গে মাস্কের ২০২৫ সালের ‘সিইও পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’-এর সঙ্গে যুক্ত স্টক-ভিত্তিক ক্ষতিপূরণ। গত ২৩ জুলাই টেসলার শেয়ারের দাম ৩১৯ দশমিক ৬৯ ডলারে গিয়ে বন্ধ হয়, যা দিনের হিসেবে ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ, গত এক মাসে ১৬ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৮ দশমিক ৯১ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে টেসলার বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২০ ট্রিলিয়ন ডলারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন