বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (লিজিং কোম্পানি) অধীনে পরিচালিত ১২টি ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর মধ্যে পর্যাপ্ত নীট সম্পদ ও সন্তোষজনক মূল্যায়ন সূচক থাকা ৪টি সাবসিডিয়ারিকে নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মূলধন ও আইনি ঘাটতিতে থাকা বাকি ৮টি প্রতিষ্ঠানকে শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । সভা শেষে কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যে ৪ সাবসিডিয়ারি কোম্পানির কার্যক্রম চালু থাকবে :
প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড (স্টক ব্রোকার),
অ্যাভিভা ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড (স্টক ব্রোকার), পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড (মার্চেন্ট ব্যাংক), প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড (মার্চেন্ট ব্যাংক)।
ঘাটতি পূরণে সময় পেল ৮ প্রতিষ্ঠান :
অন্যদিকে নীট সম্পদ ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন পরিপালনে ঘাটতি থাকা ৭টি কোম্পানিকে উক্ত ঘাটতি নিরসন এবং বিধিবিধান পরিপালন নিশ্চিত করার জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে । এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪টি স্টক ব্রোকার— প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস ও পিএফআই সিকিউরিটিজ; ২টি মার্চেন্ট ব্যাংক— আইএল ক্যাপিটাল ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট এবং ১টি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি— প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড । এছাড়া এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড নামের অপর মার্চেন্ট ব্যাংকটিকে নীট সম্পদের ঘাটতি নিরসনে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ।
অবসানের প্রক্রিয়ায় থাকা ৯ লিজিং কোম্পানি :
খেলাপীঋণের কারণে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়ায় ৯টি লিজিং কোম্পানি অবসানের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরমধ্যে চূড়ান্ত অবসায়নে ৫টি লিজিং কোম্পানিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এগুলো হলো- এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, আভিভা ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ও পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।
এরমধ্যে আদালত সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পিপলস লিজিংয়ে প্রশাসক নিয়োগ হয়নি। অপর ৪টি লিজিং কোম্পানিকে আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সময়ে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণে ব্যর্থ হলেও সেগুলোকেও অবসায়নের প্রক্রিয়ায় আনা হবে।
এগুলো হলো-প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

