একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংক নিয়ে নতুন ব্যাংকের যাত্রা আগামী সপ্তাহেই শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, আমাদের খারাপ, অচল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে কিছু করার দরকার ছিল। সেজন্য পাঁচ ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ প্রয়োগ করতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে আমরা একটি নতুন ব্যাংক করতে যাচ্ছি। আশাবাদী করি আগামী সপ্তাহেই এ ব্যাংকের লঞ্চিং (যাত্রা শুরু) হয়ে যাবে। এখানে ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকবে। ফলে এরচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক আর হবে না। সরকারের সাহায্যেই দুর্বল ব্যাংকগুলোকে নিয়ে একটি সবল ব্যাংক তৈরি করব।
শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫’-এ এসব কথা বলেন গভর্নর। ২০২০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’। দেশের আর্থিক খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নীতি-নির্ধারণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক নিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
‘ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সামষ্টিক অর্থনীতি’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের অনেক সমস্যা আছে এবং এগুলোর গভীরতাও অনেক। এরপরও আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র অর্থনীতিকে উন্নয়ন করতে পেরেছি। বিনিময় হার স্থিতিশীল করা, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট সারপ্লাসসহ বৈশ্বিক লেনদেনে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এগুলো আমরা সফলতার সঙ্গেই করেছি। আমি গভর্নর হিসেবে যোগদানের সময় দেশে ডলারের দর ছিল ১২০ টাকা। এখন তা ১২২ টাকা হয়েছে। যদিও একই সময়ে ভারতে ডলারের দর ৮৪ থেকে ৮৯ রূপি হয়েছে। ডলারের দর নির্ধারণে আমরা কোনো হস্তেক্ষেপও করছি না।
আসন্ন রমজানে বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো সরবরাহ সংকট তৈরি হবে না বলেও জানান গভর্নর। তিনি বলেন, গত বছর রমজান মাস খুব কঠিন থাকার পরও আমরা সর্বোচ্চ সরবরাহ নিশ্চিত করেছি। এ বছরেও কোনো সংকট দেখছি না। ইতিমধ্যে অনেকগুলো ঋণপত্র খোলা হয়েছে। আশা করি, রমজানে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৮ শতাংশ দেখানো হয়েছিল। এ বিষয়ে গভর্নর বলেন, সরকার যখন ৮ শতাংশ খেলাপি ঋণের কথা বলেছে, আমি ভেবেছিলাম এ হার তিনগুণ তথা ২৫ শতাংশ হতে পারে। এখন দেখি তা ৩৫ শতাংশ। পুরো ঋণের দুই তৃতীয়াংশ নিয়েই ব্যাংকগুলোকে চালাতে হচ্ছে। আমাদেরকে ধাপে ধাপে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ করতে হবে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আরো কথা বলেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক, হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, বিএসএমএ’র সভাপতি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।

