শেয়ারবাজারে বড় দরপতনে সূচক নামল সাড়ে ৫ হাজারের নিচে

শেয়ারবাজারে বড় দরপতনে সূচক নামল সাড়ে ৫ হাজারের নিচে

দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতনে অস্থিরতা বিরাজ করছে। আগের ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার বড় ধরনের দরপতন হয় শেয়ারবাজারে। এতে সূচকের পাশাপাশি, মূলধন ও লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। একই সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সাড়ে ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, উচ্চ সুদের হার, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা, ভালো কোম্পানির নতুন শেয়ারের ঘাটতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ—সব মিলিয়ে বাজারে নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ কমেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা গুজব। ফলে অনেকে খবরের সত্যতা যাচাই না করেই শেয়ার বিক্রি করছেন।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের শেয়ারবাজারে মন্দা চললেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে। দীর্ঘ মন্দার প্রভাবে চলতি বছরের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪,৯১০ পয়েন্টে যায়, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে একপর্যায়ে সূচকটি ৫,৯০০ পয়েন্টের ওপরে উঠে আসে। এতে দীর্ঘদিন ধরে বহন করা বিনিয়োগকারীদের বড় লোকসান কিছুটা কমে আসে। তবে সম্প্রতি আবারও বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে পতনের মধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজার। ফলে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা আবারও ভারী হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও বিনিয়োগ করা পুঁজি হারানোর শঙ্কা পেয়ে বসার পাশাপাশি আস্থার সংকটও তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, কিছু বড় বিনিয়োগকারীর শেয়ার লেনদেনের তথ্য নিচ্ছে ডিএসই ও বিএসইসি। এতে তাদের কারণে যেসব শেয়ারের দর বাড়ছিল, সেগুলো ক্রমাগত দর হারাচ্ছে। এদের অনুসরণ করে যারা শেয়ার কেনাবেচা করেন, তারা আরো দর হারানোর ভয়ে শেয়ার বিক্রি করছে বলে শুনছি। এতে দরপতন বাড়ছে।

তবে দরপতনের যৌক্তিক কারণ নেই বলে জানান পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ। তিনি বলেন, বাজারে যেভাবে পতন হচ্ছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। নতুন কমিশন বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, এতে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর কথা। তবে তারল্য সংকট রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. আল আমীন আমার দেশকে বলেন, দেশে এমন বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, যার কারণে শেয়ারবাজারে এত বড় ধস নামতে পারে। তবে নতুন কমিশন এমন কোনো চমক দেখাতে পারেনি যে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কমিশন কী করছে তা না বলে ভবিষ্যতে কী করবে সেটি বলছে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে না।

বাজার চিত্র

আগের ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রোববার বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এক দিনেই ৯৬ পয়েন্ট কমে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির। অন্যদিকে ডিএসইর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে ২,০৭২ পয়েন্টে নেমেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১,০৮৫ পয়েন্টে।

ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া শীর্ষে ছিল এনভয় টেক্সটাইল। কোম্পানিটির ২৯ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ১৯ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর ১৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইর শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের অন্যগুলো হলো সায়হাম টেক্সটাইল, মালেক স্পিনিং, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সাউথইস্ট ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, সায়হাম কটন ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতেও ছিল একই চিত্র। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩৮টির দাম কমেছে এবং ১৮টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৫০ পয়েন্ট। সিএসইতে গতকাল ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন