আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা পণ্য কেনাবেচার পরীক্ষামূলক লেনদেন

সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলক চালু ডিসেম্বরে চলবে পুরোদমে

কাওসার আলম

সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলক চালু ডিসেম্বরে চলবে পুরোদমে

আগামী সেপ্টেম্বরে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা পণ্য কেনাবেচার পরীক্ষামূলক লেনদেন (মক ট্রেডিং) শুরু হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে পুরোদমে চালু হবে পণ্য লেনদেনের এই বাজারটি। প্রথমে সোনা, রুপা ও পাম অয়েল দিয়ে এ বাজার শুরু হলেও ধীরে ধীরে কৃষিসহ অন্যান্য পণ্যও যুক্ত হবে এতে। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর বিষয়টিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন দিগন্তের উন্মোচন বলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার আমার দেশকে বলেন, আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে আমরা ‘মক ট্রেডিং’ শুরু করতে পারব। এখন আমরা মার্কেট কাঠামো প্রস্তুতিতে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান প্রণয়নের পাশাপাশি ব্রোকার লাইসেন্স চূড়ান্তকরণ, পণ্য নির্দিষ্টকরণ ও উপযুক্ত বিনিয়োগকারী তৈরির কাজ করে যাচ্ছি। সবকিছু সম্পন্ন করে আগামী ডিসেম্বরে কমোডিটি মার্কেট পুরোপুরি চালু সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

বিজ্ঞাপন

সাইফুর রহমান মজুমদার আরো বলেন, কমোডিটি প্রডাক্টের অনুমোদনের জন্য বিএসইসিতে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রথমদিকে সোনা, রুপা ও পাম অয়েল দিয়ে মার্কেট চালু হবে। ক্রমান্বয়ে চাল, গম, কৃষিসহ অন্যান্য পণ্য যোগ হবে। মক ট্রেডিংয়ের ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে ব্রোকার ও বিনিয়োগকারী লেনদেন কার্যক্রমে অংশ নেবে; কিন্তু কোনো ধরনের সেটেলমেন্ট হবে না।

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, কমোডিটি মার্কেট চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন সাপেক্ষে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৭ মে বিএসইসির ৯৫৬তম কমিশন সভায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (কমোডিটি ডেরিভেটিভস) প্রবিধানমালা, ২০২৫-এর অনুমোদন দেওয়া হয়। এ অনুমোদনের মাধ্যমে সিএসই কমোডিটি মার্কেট চালুর অনুমোদন পায়। এর আগে ২০২৪ সালের ২০ মার্চ সিএসই কমোডিটি এক্সচেঞ্জের নিবন্ধন লাভ করেছিল। সিএসইর কমোডিটি এক্সচেঞ্জ তৈরির জন্য পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এমসিএক্স। ১৯৯৫ সালে সিএসই প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিএসইসি সূত্র জানায়, কমোডিটি মার্কেট চালুর জন্য ব্রোকার, অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ ঠিক করতে হবে। তৈরি করতে হবে প্ল্যাটফরম, ক্লিয়ারিং সেটেলমেন্ট, কন্ট্রাক্ট ডিজাইন। পণ্য রাখার জন্য লাগবে ওয়্যারহাউস এবং পণ্যের মান নির্ধারণে থাকতে হবে কোয়ালিটি কন্ট্রোলার। কমোডিটি মার্কেটে পণ্য বিক্রি হবে না। বিক্রি হবে ফিউচার কন্ট্রাক্ট। একেকটি কন্ট্রাক্ট অনেকবার হাতবদল হবে। যখন সেটেলমেন্ট হবে, তখন কন্ট্রাক্ট ডিজাইন অনুযায়ী পণ্যের হাতবদল হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণত কোম্পানির শেয়ার, বন্ড, ডিবেঞ্চার, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়। অপরদিকে কমোডিটি এক্সচেঞ্জে বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনাবেচা হয়। এ ছাড়া কমোডিটি এক্সচেঞ্জ হচ্ছে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা বিভিন্ন পণ্যের মান সনদ যাচাই করে পণ্য কেনাবেচা করবেন। মূল পণ্যটি থাকবে কোনো গুদাম বা ওয়্যারহাউসে। সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পণ্য হস্তান্তর করা হবে।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জে যেভাবে বেচাকেনা হবে

স্টক মার্কেটে বহু কোম্পানি মূলধন সংগ্রহ করতে শেয়ার বিক্রি করে এবং তা কিনে নেন বহুসংখ্যক বিনিয়োগকারী। কমোডিটি এক্সচেঞ্জও তেমনই। তবে এখানে শেয়ার নয়, পণ্য কেনাবেচা হয়। অনেকটা শেয়ারের মতো বিক্রেতার দেওয়া পণ্যের সার্টিফিকেট (সনদ) বিক্রি হয়। ক্রয় করা সার্টিফিকেট অন্য কারো কাছে বিক্রি করা হয়। অনেকটা মিলগেটে ডেলিভারি অর্ডার বা ডিও কেনাবেচার মতো।

এটি আইনি প্রক্রিয়ার বাজার, যা নিয়ম বা পদ্ধতি নির্ধারণ করে এবং তা প্রয়োগের মাধ্যমে কমোডিটিজ বা পণ্য এবং এ সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে সহায়তা করে। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা ফিউচার মার্কেটের মাধ্যমে পণ্যের উৎপাদক ও ক্রেতার মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ করা সহজ হয়।

ব্রোকার হওয়ার যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে

ডেরিভেটিভ ব্রোকারের জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের যেসব ব্রোকার রয়েছে, তাদের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা এবং উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের (ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ) ব্রোকারদের পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি টাকা। ব্রোকাররা সিএসইর মাধ্যমে বিএসইসিতে আবেদন করবে। আবেদনের জন্য দুই লাখ টাকা ফি দিতে হবে। এরপর যারা অনুমোদন পাবে, সিএসই তাদের মধ্য থেকে ডেরিভেটিভ ব্রোকার হিসেবে তালিকাভুক্ত করবে। তালিকাভুক্তির জন্য দুই কোটি টাকা দিতে হবে। এ ছাড়া প্রতি বছর এটি নবায়ন করতে হবে।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ পরিচালনা-সংক্রান্ত কমিটি

বাজারে সুশাসন ও প্রশাসন নিশ্চিত করার জন্য কমোডিটি আইনে বেশকিছু কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো-অডিট কমিটি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি, মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটি, পণ্য পরামর্শ কমিটি ও বাজার সচেতনতা কমিটি। তবে পণ্য বিনিময় কার্যক্রম সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে পরিচালনা পর্ষদ প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ব্যবস্থাপনা কমিটিও গঠন করতে পারবে। এসব কমিটির কার্যপরিধি পণ্য বিনিময়ের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক কমিশনের পূর্বানুমোদনসাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন