‘পরাজয়’ মেনে নিয়ে শোক ও শকে কাতর

পরিবর্তিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পদচ্যুত পরিচালকরা

স্পোর্টস রিপোর্টার

পরিবর্তিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পদচ্যুত পরিচালকরা

বিসিবির অ্যাডহক কমিটি গঠনের দিনই নিজেকে ‘বৈধ’ সভাপতি হিসেবে দাবি করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বিসিবিতে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে আইসিসির কাছেও ধরনা দিয়েছিলেন তিনি। আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করলেও শেষ পর্যন্ত সে পথে আর পা বাড়াননি বুলবুল ও অন্যান্য ক্ষমতাচ্যুত পরিচালক। এখনো নিজেদের ‘বৈধ’ দাবি করা আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও তার ক্ষমতা হারানো পরিচালকরা তিন মাস পরের বিসিবি নির্বাচনে অংশ নেবেন কী না—সে বিষয়েও চূড়ান্ত কিছু জানা যায়নি এখনো। ক্ষমতা হারানো বেশ কজন বোর্ড পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে যা জানা গেল, তাতে পরিষ্কার এখনো তারা চেয়ার ও ক্ষমতা হারানোর শোক ও শকে কাতর।

বিজ্ঞাপন

তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটির অধীনে আগামী তিন মাস, অর্থাৎ ৬ জুলাইয়ের মধ্যে বিসিবি নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এই নির্দেশে স্পষ্ট বিসিবির আরেকটি নির্বাচন আসন্ন। সে নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত পরিচালকরা অংশ নিতে পারবেন কি না—সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর যারা অংশ নিতে পারবেন, তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না- সেটা নিয়ে চলছে আলোচনা। বিসিবির পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সময় পরিচালক হিসেবে ছিলেন ১৮ জন। এদের মধ্যে ১০ জন ছিলেন জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে। বাকি আটজনের ছয়জন ছিলেন ক্লাব ক্যাটাগরির আর বাকি দুজনের একজন ছিলেন এনএসসি মনোনীত আর বাকি একজন এসেছিলেন সাবেক ক্রিকেটার ক্যাটাগরিতে।

এতে খানিকটা স্পষ্ট, পরবর্তী বিসিবি নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরির ছয়জন পুনরায় কাউন্সিলর হয়ে বিসিবিতে আসার সুযোগ পাবেন। তবে বিভাগীয় পর্যায় থেকে আসা ১০ জনের জন্য নতুন করে কাউন্সিলর হয়ে এসে বিসিবি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ খুবই ক্ষীণ। অন্যদিকে খেলোয়াড় কোটায় নির্বাচন করা খালেদ মাসুদ পাইলটের জন্যও বিসিবিতে ফেরত আসার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়। এই আগাম হিসাব জানাচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত পরিচালকদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজনই হয়তো বিসিবির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

জুলাইয়ের সম্ভাব্য সে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না—সে বিষয়ে ক্ষমতাচ্যুত একাধিক বিসিবি পরিচালক জানিয়েছেন, তারা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তবেই সিদ্ধান্ত নেবেন। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবিতে থাকা পদত্যাগী সাত পরিচালকের মধ্যে ছয়জন ছিলেন ক্লাব ক্যাটাগরির। পদত্যাগ করা এই পরিচালকরাও এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন বিসিবি নির্বাচন নিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদত্যাগী একাধিক পরিচালক জানান, তারা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। পরিস্থিতি বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন। অনেকে আভাস দিয়ে রেখেছেন, তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাদের মতে, বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা অ্যাডহক কমিটি ও অন্যদের সঙ্গে আলোচনা এবং সমঝোতার ওপরই নির্ভর করবে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না। আপাতত বিসিবি থেকে ‘পরাজয়’ মেনে নিয়ে ক্রিকেট ও মিডিয়া থেকে খানিকটা আড়ালে থাকাকেই অধিকতর ‘নিরাপদ’ মনে করছেন ক্ষমতাচ্যুত পরিচালকদের বেশিরভাগ অংশ।

গতকাল ক্ষমতাচ্যুত সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কথা বলতে অনাগ্রহের কথা জানিয়ে দেন। এখনো বাংলাদেশে অবস্থান করা আমিনুল শিগগির অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের কাছে ফেরত যাবেন বলে জানা গেছে। তার মতো অন্যান্য ক্ষমতাচ্যুত পরিচালক এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন নিজেদের কাজ নিয়ে। আপাতত তাদের চিন্তা-ভাবনায় ক্রিকেট কিংবা বিসিবি নিয়ে কিছু নেই।

অথচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে বিসিবিতে শেষ পর্যন্ত থাকা ১৮ পরিচালকের অনেকেই প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জাহির করতেন। আগের বোর্ডের সমালোচনা তো করতেনই, সঙ্গে সতীর্থ পরিচালকদের নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করতেন অনেকে। ক্ষমতার দাপট দেখানো এসব পরিচালকের বেশিরভাগই এখন সংবাদমাধ্যম থেকে দূরে আছেন। ক্ষমতাচ্যুতির আগে এই ১৮ পরিচালকের কেউই আন্দাজ করতে পারেননি এভাবে বিসিবি থেকে সরে যেতে হবে তাদের। আইসিসিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিসিবিতে টিকে যেতে চেয়েছিলেন তারা। তাদের ওই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। আইসিসির অনুমতি নিয়ে বিসিবিতে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আইসিসিকে বিচার দিলেও সেই রায় তাদের পক্ষে যায়নি। আইসিসি তাদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিয়েছে।

মূলত গত বছরের ৬ অক্টোবর বিসিবি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ওঠার বিষয়টি যে সত্য, সেটা জেনেই হয়তো আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আপিল খারিজ করে দিয়েছে আইসিসি। ক্লাব কোটার ১২ পরিচালক নির্বাচিত করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্যান্য পরিচালকের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি ছিল পুরোপুরি বিতর্কিত এবং ছক সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে। বিশেষ করে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায় থেকে কাউন্সিলর চেয়ে বিসিবি থেকে সভাপতি বুলবুল যেভাবে চিঠি দিয়েছিলেন, সেটাই নির্বাচনকে করে তোলে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। রাতের আঁধারে বনানীর এক হোটেলে ক্লাব ক্যাটাগরির পরিচালকদের জালিয়াতির মাধ্যমে ই- ভোটে নির্বাচিত করা নিয়েও ছিল তুমুল সমালোচনা। সব মিলিয়ে বিসিবির সব শেষ নির্বাচন ‘বিতর্ক’কে দিয়েছে বাড়তি মাত্রা। সে নির্বাচনে কারচুপি ও কারসাজির অভিযোগ তদন্তে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা রিপোর্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডের বিরুদ্ধে যায়।

সেই চাপে পাঁচ মাসেই বাতিল হয়ে যায় বিতর্কিত নির্বাচনে মসনদে বসা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...