বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে ২৪ শতাংশ

পণ্যের দাম বাড়বে ১৬ শতাংশ

আমার দেশ অনলাইন

যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে ২৪ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক পণ্যবাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আগামী বছরে জ্বালানি পণ্যের দাম গড়ে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। একই সঙ্গে তেল, সার ও ধাতুর মূল্যবৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালে সামগ্রিক জিনিসপত্রের মূল্য প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে এসব পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩৫ শতাংশ চলাচল করে। এ রুটে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় প্রাথমিকভাবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দিনে প্রায় এক কোটি ব্যারেল কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি দামে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বেসলাইন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের গড় দাম প্রতি ব্যারেল ৮৬ ডলারে উঠতে পারে। চলতি বছরে এর গড় মূল্য ছিল ৬৯ ডলার। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দাম ১১৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি খাতের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। আগামী বছরে সারের দাম গড়ে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইউরিয়ার মূল্য ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সময়ে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনসহ শিল্পধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিতে পারে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দরও বাড়তে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোয় আগামী বছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে তা ৫ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে এসব দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেমে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন