ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে বইছে জোয়ার। চলতি ডিসেম্বরের প্রথম ২৮ দিনে ২৪২ কোটি ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। এ ২৮ দিনে দৈনিক গড়ে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৮ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯১ কোটি ডলার। সেই অনুযায়ী রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর গত বছর পুরো ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৯৯ কোটি ১২ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর বাড়িয়েছে। ফলে এখন ডলারের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক দামের পার্থক্য অনেক কমে গেছে। তাই প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। এছাড়া অর্থ পাচার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাই হুন্ডি চাহিদা কমে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে।
প্রবাসী রেমিট্যান্স হাউসগুলোর সূত্রে জানা গেছে, এখন বেশিরভাগ ব্যাংক ১২৪ টাকার বেশি দামে প্রবাসী আয়ের ডলার কিনছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ব্যাংকগুলো ১২৩ টাকায় রেমিট্যান্স কেনার নির্দেশনা দিয়েছে। যদিও দুই সপ্তাহ আগে ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় কিনেছিল ১২৬-২৭ টাকায়। মূলত আমদানির ওভার ডিউ পেমেন্টে পরিশোধের চাপের কারণে ব্যাংকগুলো উচ্চ দরে ডলার কিনেছিল।
গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ জোরালো হতে শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতায় নভেম্বর মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ২২০ কোটি ডলার। গত বছরের নভেম্বরে ১৯৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। সেই হিসাবে নভেম্বরে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। এ ছাড়া গত অক্টোবরে দেশে ২৩৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। আর গত সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ডলার এবং আগস্টে ২২২ কোটি ডলার প্রবাসী আয় দেশে আসে।
প্রবাসী আয় হলো দেশের ডলার জোগানের একমাত্র দায়হীন উৎস। কারণ, এই আয়ের বিপরীতে কোনো বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয় না অথবা কোনো দায় পরিশোধ করতে হয় না। রপ্তানি আয়ে ডলার এলেও কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করতে ডলার খরচ হয়। অন্যদিকে বিদেশি ঋণ শোধেও ডলারের প্রয়োজন হয়। ফলে প্রবাসী আয় যত বাড়বে, দেশে ডলারের সঙ্কট তত কমবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

