মেয়াদোত্তীর্ণ বিদেশি আমদানির দায় (ঋণ) পরিশোধের চাপে ডলার বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি ডলারের বাজারের অস্থিরতার কারণ নিয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা এক ব্যাখ্যায় এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে অনেক ঋণ পরিশোধের মেয়াদ থাকে। তাই অন্য মাসের তুলনায় এই মাসে ঋণ পরিশোধের চাপ বেশি থাকে। আবার আইএমএফের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রিজার্ভ রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি বন্ধ রেখেছে বলে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের জোগান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেনি।
তাদের মতে, এছাড়া বাংলাদেশের রেটিং অবনমনের কারণে বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর করেসপন্ডেন্ট রিলেশনশিপ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ইউপাস এলসি খোলা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। পেমেন্টের ম্যাচুরিটি ডেফার্ড করা সম্ভব হয়নি ও অফশোর ব্যাংকিং ঋণের আন্তঃপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বৈদেশিক দেনা পরিশোধ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের কারণে ডলার বাজারে চাপ বৃদ্ধি করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, রেমিট্যান্স আহরণে অ্যাগ্রিগেটরদের একচেটিয়া ও মধ্যস্বত্বভোগী ভূমিকা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের ইনফ্লো-আউটফ্লো মিসম্যাচের কারণেও ডলার বাজারে অস্থিতিশীলতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডলার বাজার স্থিতিশীল করতে ইতোমধ্যে রেমিট্যান্স আহরণের বিনিময় হার প্রতি ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা হবে। ‘ক্রস কারেন্সি’ হলে তা ক্রস ক্যালকুলেশন করে তাও ১২৩ টাকায় রাখতে হবে। এছাড়া ড্যাশবোর্ড বা ডাটা মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
সম্প্রতি স্থিতিশীল ডলার বাজার অস্থিরতা তৈরি হয়। হঠাৎ করে ১২০ টাকার ডলারের দর বেড়ে ১২৬-১২৭ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা তলবে করে। পরবর্তীতে ব্যাংকগুলোকে ডলার কেনার জন্য সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। এরপর থেকে ডলারের দাম আবার কমতে শুরু করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

