ঢাকা শহরে প্ল্যান ছাড়া বানানো ভবনগুলো শনাক্ত করছি: গণপূর্তমন্ত্রী

ঢাকা শহরে প্ল্যান ছাড়া বানানো ভবনগুলো শনাক্ত করছি: গণপূর্তমন্ত্রী

ঢাকা শহরে প্ল্যান ছাড়া নির্মিত ভবনগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, রাজউকের আওতাধীন ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্ল্যান পাস দেওয়া হলেও এর মধ্যে অনেক ভবন প্ল্যান ছাড়া নির্মিত হয়েছে। সেগুলো এখন শনাক্ত করা হচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের বলরুমে আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্মার্ট আবাসন, টেকসই নগরায়ণ ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে নীতিগত চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে ব্যবসা ও অর্থনীতিবিষয়ক পত্রিকা দৈনিক বণিক বার্তা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম (রেজু), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল বাতেন, জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বিএসএমএর সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, জিএমইএবির সভাপতি ও নাসির সিনট্যাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী প্রমুখ।

আলোচনা সভায় জাকারিয়া তাহের বলেন, আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেটের (ইউডিডি) মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রায় ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রথমে মেট্রোপলিটন সিটিগুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এরপর লার্জ সিটিগুলো থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়েও প্রকৃত অর্থে একটি মাস্টার প্ল্যান করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা জোনিং করব—কোথায় কী হওয়া উচিত। সেই মাস্টার প্ল্যান ছাড়া কাজ করাটা অনেকটা চোখ বন্ধ করে একটা লক্ষ্য করে চারটা তীর ছোড়ার মতো। আমরা প্রিসাইজলি কাজ করতে চাচ্ছি। তার জন্যই ইউডিডিকে আমরা শক্তিশালী করছি।’

যথেষ্ট পরিমাণ ডেটা থাকলে পরিকল্পনাও সঠিকভাবে করা যায় মন্তব্য করে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ যে শুমারি হয়েছে, সেটি অনেক দিন আগের। তার মতে, আরেকটি সঠিক শুমারি করা উচিত, যার ভিত্তিতে পরিকল্পনা করা যাবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি’ নিয়ে কাজ চলছে। আর্কিটেকচার, স্ট্রাকচারাল ও ইলেকট্রিক্যাল প্ল্যানিংসহ সবকিছু মিলিয়ে ভবনের প্ল্যান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনুমোদনের পর ভবন নির্মাণ হলে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট পেতে সংশ্লিষ্ট ডিজাইনারদের ভবনটি সঠিকভাবে নির্মিত হয়েছে বলে সার্টিফাই করতে হবে।

গুলশান-বনানীর আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের বলেন, সেখানে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ বাড়িঘর রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাড়িতে প্ল্যানিংয়ের সময় সেফটি ট্যাংক ও সোকওয়েল থাকার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। নামি-দামি ডেভেলপাররাও ভবন নির্মাণের পর সুয়ারেজের সংযোগ স্টর্ম অর্ডারের সঙ্গে দিয়ে দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে তিন থেকে চারবার বৈঠক করা হয়েছে। এ সময় আক্ষেপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘গুলশান-বারিধারার লেকই যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, সারা দেশ কীভাবে ঠিক করব?’

কনক্লেভে দেশের আবাসন ও নির্মাণ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ণ, স্মার্ট ও সবুজ আবাসন, আবাসনে অর্থায়ন, নির্মাণ খাতে দেশীয় সক্ষমতা এবং জ্বালানি রূপান্তরে এলপিজি ও সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনাসহ সংশ্লিষ্ট নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে ‘জ্বালানি রূপান্তর: এলপিজি ও সোলার’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। ‘নির্মাণে দেশীয় সক্ষমতা’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিএসএমএর সভাপতি এবং ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং জিএমইএবির সভাপতি ও নাসির সিনট্যাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস।

‘স্মার্ট-সবুজ আবাসন ও অর্থায়ন’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন স্পেসজিরো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল বাতেন এবং এবিসি রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রাবণী দত্ত।

এ ছাড়া ‘প্রাথমিক আলোচনা ও বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি: আবাসন, নির্মাণ ও টেকসই নগরায়ণ’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন