আগাম শীতকালীন সবজি, উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাজারে

আগাম শীতকালীন সবজি, উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাজারে
রাজধানীর কারওয়ানবাজারে আগাম শীতকালীন সবজি সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় এক বিক্রেতা। ছবি: আমার দেশ

রাজধানীতে শীতের পরশ এখনো সেভাবে না লাগলেও বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা ও টমেটোর মতো মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়ছে বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে।

শীতকালীন সবজির প্রতি রাজধানীবাসীর আগ্রহ বাড়লেও দাম অনেকেরই নাগালের বাইরে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে নিছক দামের কারণেই। পেঁপে, পটোল, লাউ ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া তুলনামূলক কম দামে অন্য সবজি পাওয়া কঠিন। ফলে শীতের আগাম সবজি বাজারে আসার আনন্দের পাশাপাশি বাড়তি দামের চাপও সামলাতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি ও খুচরা বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম। শীতের সবজি পুরোদমে বাজারে আসতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, বাজারে আসা আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার আকার এখনো তুলনামূলক ছোট। টমেটোও এখনো তেমন পরিপক্ব হয়নি, সাদাটে ও সবুজ আভা তা জানান দিচ্ছে। চাহিদা থাকায় কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই জমি থেকে তুলে বাজারে বিক্রি করছেন।

গত রোববার রাত দেড়টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, যশোরসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও মুলা এসেছে। ট্রাক থেকে সবজি নামাতে ব্যস্ত কুলি ও ভ্যানচালকরা। কেউ আড়তের সামনে সবজি স্তূপ করে রাখছেন, কেউবা ফুটপাতে চট বিছিয়ে শুরু করেছেন বিক্রি। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী ট্রাক থেকেই সরাসরি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সবজি বিক্রি করছেন।

বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে শিম। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শিমের দাম ৯৫ থেকে ১২০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। ভরা মৌসুমে তুলনামূলক কম দামের সবজি হিসেবে পরিচিত মুলার কেজিও এখন পাইকারি বাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকা। আর খুলনা থেকে আসা দেশি টমেটো প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে শিম, ফুলকপি ও মুলার মতো শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নিত্যদিনের বাজার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। পছন্দের সবজি কেনার ইচ্ছা থাকলেও চড়া দামের কারণে অনেককে পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের কাঁচামালের আড়তদার মিজানুর রহমান সুমন বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শীতকালীন সবজি এলেও বর্তমানে মূলত খুলনা বিভাগের জেলাগুলো থেকেই আগাম সবজি আসছে। অন্য অঞ্চলে এসব সবজি এখনো বাজারজাত করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম বেশি। কয়েক দিন পর সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে শুরু করবে বলে আশা করা যায়।

তিনি বলেন, ভরা মৌসুমে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে অবিক্রীত মুলা ফেলে দিতে হয়, আবার বড় আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করতে হয়।

শাহজাহান নামে আরেক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, কাঁচাবাজারের দাম ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওঠানামা করে। রাতের তুলনায় ভোরে অনেক সবজির দাম কমে আসে। আগের রাতে শিম প্রতি কেজি ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও ভোরে তা নেমে ৯৫ টাকায় আসে। একইভাবে রাত ১১টা থেকে ১২টায় প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও ভোরের দিকে দাম কমে ৩০ টাকায় নেমে আসে।

খুচরা বাজারের দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, এলাকাভেদে সবজির দামে পার্থক্য হয়। গুলশান ও ধানমন্ডির মতো এলাকায় যে দামে সবজি বিক্রি হয়, মহাখালী বা শ্যামলীতে তা তুলনামূলক কম হতে পারে। ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করা অনেক বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে ক্রেতারা কিছুটা সাশ্রয় করতে পারেন। এজন্য খুচরা পর্যায়ের দাম বলা কঠিন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পটোল ৬০-১০০, চিচিঙ্গা ৬০-৮০ টাকা, ঝিঙা ৭০-১০০, বেগুন ৮০-১৪০, করলা ৮০-১২০, কাঁকরোল ৮০-১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০, টমেটো ১৬০-১৮০, শিম ১৫০-২০০, মিষ্টিকুমড়া ৬০, বরবটি ৮০-১০০, কাঁচামরিচ ১২০-১৬০, শসা ৭০-৮০, পেঁপে ২০-২৫, কচু ৫০-৬০, ওল ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৬০-৮০ টাকা, প্রতি হালি কাঁচা কলা ৩০-৪০ টাকা, প্রতি আঁটি পুঁইশাক ৪০-৫০ টাকা, লালশাক ২০-৩০ টাকা, প্রতিটি লাউ ৫০-৭০ টাকা এবং মুলা ৫০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন