আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

মধ্যপ্রাচ্য সংকট

অর্থনীতির ধাক্কা সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অর্থনীতিবিদদের একগুচ্ছ পরামর্শ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

অর্থনীতির ধাক্কা সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অর্থনীতিবিদদের একগুচ্ছ পরামর্শ

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, জ্বালানির বিকল্প উৎস খোঁজা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখা এবং আপাতত নীতি সুদ হার অপরিবর্তিত রাখাই হবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই পরামর্শ দেন দেশের আটজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর নীতি সুদহার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে এক সদস্যের পদত্যাগ এবং অর্থনীতিবিদদের আপত্তির কারণে সেই উদ্যোগ স্থগিত হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ক্ষেত্রে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ডলারের ওপর চাপ বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে।

সভায় অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক, বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ নাজমুস সাদাত খান।

বৈঠকে অর্থনীতিবিদরা বলেন, সম্ভাব্য বৈশ্বিক চাপ এড়ানো কঠিন হলেও ক্ষতি কমানোর জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখার ওপর জোর দেন এবং রিজার্ভ থেকে ডলার খরচ করে অতিরিক্ত আমদানি না করার পরামর্শ দেন। জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস খোঁজার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ব্রুনাই ও সিঙ্গাপুর থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও তা তাৎক্ষণিকভাবে ভোক্তা পর্যায়ে চাপিয়ে না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়, কারণ এতে মূল্যস্ফীতি আরো বেড়ে যেতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা আরো বলেন, বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তাই মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এমন কোনো নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তারা। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত ছাড় করার উদ্যোগ নেওয়া এবং তেল আমদানির জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রবাসী আয়ে সম্ভাব্য ধাক্কা মোকাবিলায় প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশে আনার প্রক্রিয়া আরো সহজ করার সুপারিশও করা হয়েছে।

সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, তিনি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকেও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

অর্থনীতিবিদরা শেষ পর্যন্ত মত দেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক বাজারের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে সুদের হার কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। তবে আপাতত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।

অর্থনীতিবিদরা একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই কমিটি সময়ে-সময়ে বিভিন্ন ইস্যতে ব্রিফ করবে, যাতে কোনো প্যানিক তৈরি না হয়।

অর্থনীতিবিদরা একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই কমিটি সময়ে-সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিফ করবে। যাতে কোনো প্যানিক তৈরি না হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন