ফুটবল মাঠে আমি বহু ট্রফি দেখেছি, বহু কিংবদন্তির সঙ্গে খেলেছি এবং নিজে একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে মাঠের লড়াইটা খুব কাছ থেকে অনুভব করেছি। কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে লিওনেল মেসি যা করে চলেছে, তার কোনো তুলনা হয় না। আমরা যারা তার সতীর্থ ছিলাম কিংবা যারা তার ফুটবল ক্যারিয়ারকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, তারা প্রতি মুহূর্তে অবাক হয়ে একটি কথাই ভাবি-এ মানুষটার ঝুলিতে জাদুকরী গল্পের বোধ হয় কোনো শেষ নেই!
বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকা-সবকিছু জেতার পরও লিও কীভাবে নিজেকে প্রতি ম্যাচে এভাবে নতুন করে মেলে ধরে, তা সত্যিই এক রহস্য। ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসেও যখনই সে মাঠে নামে, মনে হয় সে তার ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচটি খেলছে এবং বিশ্বকে নতুন কিছু দেখাতে চাইছে। সে সব সময় আমাদের এমন কিছু উপহার দেয়, যা আমরা আগে কখনো দেখিনি। প্রতি ম্যাচেই সে আমাদের জন্য নতুন আরেকটি গল্প তৈরি করে রেখে যায়।
আমরা আর্জেন্টাইনরা নিজেদের চরম ভাগ্যবান মনে করি এ কারণে যে, আমরা প্রথমে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে পেয়েছিলাম এবং তারপর লিওনেল মেসিকে পেয়েছি। যেমনটা ব্রাজিলের জন্য পেলে বা অন্যান্য সুপারস্টাররা, ঠিক তেমনি আমাদের জন্য ম্যারাডোনা আর মেসি হলেন সম্পূর্ণ ‘অস্পৃশ্য’ বা ধরাছোঁয়ার ঊর্ধ্বে।
আজ পুরো পৃথিবী মেসির জন্য যেভাবে উন্মাদ হয়ে উঠেছে, তা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে মানুষ তার পায়ের জাদু দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে। ফুটবল বিশ্বকে তার মতো করে আর কেউ এভাবে মন্ত্রমুগ্ধ করতে পারেনি। আলবিসেলেস্তেরা এখন যেকোনো বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে একটি বিশাল মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা নিয়ে মাঠে নামে। কারণ, দলের ছেলেদের মধ্যে ২০২২ বিশ্বকাপ ও পরপর দুটি কোপা আমেরিকা জয়ের সেই অপরাজেয় আত্মবিশ্বাস কাজ করছে।
দলের তরুণ ফুটবলারদের দিকে তাকালে আমার খুব ভালো লাগে। স্কালোনির এই সিস্টেমে নতুন ছেলেরা যেভাবে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে, তা এককথায় অসাধারণ। তারা মাঠের ভেতর জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করে এবং যখন তারা জানে তাদের পেছনে বা সামনে লিওনেল মেসি দাঁড়িয়ে আছে, তখন তাদের আত্মবিশ্বাস দ্বিগুণ হয়ে যায়। মেসির এই ফুটবলযাত্রা যেন কখনো শেষ না হয়Ñফুটবলপ্রেমী হিসেবে এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া।
১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা যা করেছিলেন, তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ইংল্যান্ড নিশ্চিতভাবেই অপেক্ষা করছে। ওই ম্যাচের কারণে ম্যারাডোনার প্রতি তাদের একটি ভালোবাসা ও ঘৃণার মিশ্র অনুভূতি কাজ করে। ইতিহাস এখনো আছে, ইতিহাস এখনো জীবন্ত।
সাবেক ফরোয়ার্ড, আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

