অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এখন অর্থনীতির সংজ্ঞাও বদলে গেছে। আগে সব সরকার করত। এখন সরকারের পক্ষে একা তো সবকিছু করা সম্ভব না। সরকারি সেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা এই পার্টনারশিপটা সব জায়গায় অ্যাপ্লাই করছি। আমাদের পুরো অর্থনীতি মডেলে নতুন পদ্ধতি শুরু করেছি; আগে যেখানে ফাইন্যান্সিং শুধু লিমিটেড কিছু জায়গা থেকে হতো এখন তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এখন আমরা লিমিটেড জায়গা থেকে সরে গিয়ে পিপিপি মডেলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের দিকে যাচ্ছি। তার অর্থটা হচ্ছে, সরকার টাকা দেবে, প্রাইভেট সেক্টরও টাকা দেবে, এনজিওরা সহযোগিতা করবে। এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে যে মডেল আমরা দাঁড় করাচ্ছি, সেটা দীর্ঘমেয়াদি হবে, সেটার উপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে। এবং এটার বেনিফিট পেতে মেইনটেনেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যায় যে সরকার অনেককিছু করে, কিন্তু এগুলো আবার মেইনটেনেন্স করা হয় না।
আমির খসরু বলেন, এইখানে কিন্তু পুরো প্যাকেজটা ওইভাবে করা হচ্ছে। আমরা ক্লিন ওয়াটারের সাথে সাথে বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশনের সমস্যাটাও আমরা সিরিয়াসলি দেখছি। এটা নিয়েও নেদারল্যান্ড দূতাবাসের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে নতুন মডেলে কাজ শুরু হয়েছে। পতেঙ্গার দু’টি ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে তার যাত্রা শুরু হলো। এর মাধ্যমে পানি সংকট কেটে যাবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এর অংশ হিসেবে নগরীর প্রান্তিক পর্যায়ে উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গায় একটি নতুন পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের সব মৌলিক চাহিদা পূরণের সরকার বদ্ধপরিকর, কিন্তু শুধু সরকার একা এটা করতে পারে না, এ জন্য পার্টনারশিপটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মডেলে পানি সংকট নিরসনের চেষ্টা করছি আমরা। এই প্রকল্পে নেদারল্যান্ড দূতাবাস, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা একসাথে কাজ করবে।’
শুক্রবার সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু’র একটি হলরুমে শহরের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি-সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
চুক্তির আওতায় ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। প্রতিষ্ঠান তিনটি একটি তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


