বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ

বিসিবির সাবেক পরিচালকসহ তিনজন সাময়িক নিষিদ্ধ

বিসিবির সাবেক পরিচালকসহ তিনজন সাময়িক নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে বিসিবির সাবেক এক পরিচালকসহ ৩জনকে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বোর্ড। অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অ্যান্টি-করাপশন কোডের একাধিক ধারা ভঙ্গের দায়ে শাস্তিমূলক এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট।

বিজ্ঞাপন

আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়া ৩ কর্মকর্তা হলেন— বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান (শামীম), বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানি।

বিসিবির সংগৃহীত তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্তরা সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে ম্যাচের ফলাফল কিংবা খেলার স্বাভাবিক গতিপথ অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। এছাড়াও দুর্নীতিমূলক কাজে প্ররোচনা দেওয়া, ফিক্সিংয়ের মতো অনৈতিক প্রস্তাব পাওয়ার তথ্য গোপন রাখা এবং তদন্তকারী সংস্থাকে সহযোগিতা না করার তথ্যপ্রমাণ মিলেছে।

মোহাম্মদ মোকলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে বিপিএলের ম্যাচ ফিক্সিং বা ম্যাচের কোনো অংশ প্রভাবিত করার চেষ্টা, অন্যকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে উৎসাহিত করা, প্রাপ্ত প্রস্তাবের তথ্য বিসিবির আকসু-কে না জানানো এবং স্পর্শকাতর তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলে তদন্তে বাধার সৃষ্টি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সাবেক এই সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসারের বিরুদ্ধে ম্যাচ প্রভাবিত করার অপচেষ্টায় সহায়তা করা এবং দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত দলকে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে না জানানো এবং তদন্তপ্রক্রিয়ায় অসহযোগিতা করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সাময়িক নিষেধাজ্ঞার নোটিশ জারি করে বিসিবি অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর জন্য ১৪ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত ব্যাখ্যা পেশ করতে পারবেন। উক্ত জবাব পর্যালোচনার পর আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের নীতি ও ধারা অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন