রাজধানীর গোপীবাগে ২৫ বছর আগে ধারের ২০ টাকা ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে বাবার সামনে ছেলেকে ছুরিকাঘাতে খুনের মামলায় মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১৩ এর বিচারক জাহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ওই আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিচারক।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ৪ ডিসেম্বর বিকেলে গোপীবাগ এলাকার মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হন নজির আহম্মদ। বাড়ি ফেরার পথে তিনি দেখেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা তার ছেলে বিপ্লব বশিরকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করছেন মনির। এ সময় বিপ্লবের চিৎকারে নজির আহম্মদসহ কয়েকজন দৌড়ে গিয়ে মনিরকে জাপটে ধরে ফেলেন। গুরুতর আহত বিপ্লবকে উদ্ধার করে প্রথমে মনোয়ারা হাসপাতালে এবং পরে ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের বাবা নজির আহম্মদ ডেমরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মনিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলাটি তদন্ত করে ২০০২ সালের ৩১ মার্চ মনিরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ডেমরা থানার উপপরিদর্শক আ. জব্বার। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মনিরের কাছ থেকে বিপ্লব ২০ টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মনির বিপ্লবকে খুন করেন। ২০০২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে জামিন পান মনির।
কিন্তু পরে আদালতে হাজির না হওয়ায় ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর মনিরের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


