চাকরি হারাচ্ছেন এক লাখ কর্মী, ভক্সওয়াগনে ব্যাপক ছাঁটাই

চাকরি হারাচ্ছেন এক লাখ কর্মী, ভক্সওয়াগনে ব্যাপক ছাঁটাই

জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভক্সওয়াগন বোর্ড একটি বড় ধরনের পুনর্গঠন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আরও ৫০ হাজার চাকরি কাটার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে কোম্পানিটি মোট এক লাখ পদ বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা করেছে।

অডি, পোর্শা, স্কডা এবং ভক্সওয়াগন ব্র্যান্ড অন্তর্ভুক্ত এই গ্রুপটি মার্চে জানিয়েছিল যে, দশকের শেষ নাগাদ তারা ৫০ হাজার পদ কমাবে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ভক্সওয়াগনের প্রধান নির্বাহী অলিভার ব্লুমে বলেন, এই পদক্ষেপ কোম্পানিটির ভবিষ্যতের জন্য একটি "জোরালো বার্তা" এবং তারা "সমগ্র কর্মীবাহিনীর প্রতি দায়িত্ব নিচ্ছে"।

জুলাই মাসে ব্লুমে বলেছিলেন যে, প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত এই কর্মী ছাঁটাই করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

বিটল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি কমে যাওয়া এবং বিশেষ করে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে মুনাফা হ্রাসের মুখে পড়েছে।

ভক্সওয়াগেন আরো জানিয়েছে, তারা "সবচেয়ে আকর্ষণীয় গাড়িগুলোকে" অগ্রাধিকার দেবে এবং প্রতিটি মডেলের উৎপাদন বাড়াবে, যা ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে।

পরিবর্তিত চাহিদা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মুখে কোম্পানির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে "বৈশ্বিক কর্মী সক্ষমতার মৌলিক সমন্বয় প্রয়োজন"।

তারা আরো যোগ করেছে, "ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের পদসহ গ্রুপজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার পদের কর্মী সমন্বয় প্রয়োজন হবে।"

প্রতিষ্ঠানটি তাদের এমডেন, জ্ভিকাউ, হ্যানোভার এবং নেকারসুল্ম কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়েও বিবেচনা করছে, যেখানে তাদের মতে উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি।

তারা বলেছে, "এই কারখানাগুলোর বিকল্প ব্যবহার মূল্যায়ন করা হচ্ছে।"

এই পুনর্গঠন ভক্সওয়াগনের প্রায় নয় দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়।

২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ভক্সওয়াগনে ছয় লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত ছিল। তাদের অন্যান্য ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে সিয়াট, বেন্টলি ও ল্যাম্বরগিনি।

ইউরোপের সবচেয়ে বড় শিল্প শ্রমিক ইউনিয়ন আইজি মেটালের সভাপতি এবং ভক্সওয়াগনের সুপারভাইজরি বোর্ডের উপ-চেয়ার ক্রিস্টিয়ানে বেনার বলেন, "সংকট পরিস্থিতি" মোকাবিলায় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি "ভালো সমাধানের জন্য কঠোর লড়াই করেছে"।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভক্সওয়াগনের মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে চীনে বিক্রি কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে, যে বাজারটি একসময় তাদের সবচেয়ে বড় বাজারগুলোর একটি ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের বিক্রি কমেছে। এর একটি কারণ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রবর্তিত গাড়ি আমদানির ওপর শুল্কের প্রভাবকে দেখা হচ্ছে।

চীনা গাড়ি নির্মাতারা নতুন প্রযুক্তি বাজারে আনার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কম উৎপাদন খরচের সুবিধা নিয়ে দ্রুত সম্প্রসারণ করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিওয়াইডির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিভিন্ন বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন