সাকিবের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউসের নিবন্ধন নিয়ে ডিএসইর লুকোচুরি

সাকিবের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউসের নিবন্ধন নিয়ে ডিএসইর লুকোচুরি

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মালিকানাধীন মোনার্ক হোল্ডিংসের স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার নিবন্ধন সনদ নবায়ন-সংক্রান্ত ইস্যুতে লুকোচুরির ঘটনা ঘটিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কাছে ব্যাখ্যা তলবের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

একই সঙ্গে ব্যাখ্যা তলবের চিঠি প্রাপ্তির পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য, বিশ্লেষণ ও রেগুলেটরি মূল্যায়নসহ মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেডের নিবন্ধন সনদ নবায়ন বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ কমিশনে পাঠানোর জন্য ডিএসইকে নির্দেশনা প্রদানেরও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বিএসইসির সভায়।

বিজ্ঞাপন

গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার এবং অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা ২০০০’-এর বিধি ৮(৩) অনুযায়ী নির্ধারিত ফরম ‘ছ’তে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি যথাযথভাবে পূরণ না করেই ডিএসই নিবন্ধন সনদ নবায়নের পক্ষে ইতিবাচক সুপারিশ করেছে, যা বিধিমালার পরিপন্থি এবং ডিএসইর রেগুলেটরি দায়িত্ব পালনে স্পষ্ট ব্যর্থতার পরিচায়ক। পরে কমিশন এ বিষয়ে ডিএসইর কাছে ব্যাখ্যা তলব করলে ডিএসই ফরম ‘ছ’ পূরণসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি পাঠালেও ওই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ নবায়নের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট রেগুলেটরি সুপারিশ প্রদান করেনি।

জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আমার দেশকে জানান, বিধিমালা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট (নিবন্ধন সনদ নবায়নের পক্ষে বা বিপক্ষে) সুপারিশ প্রদানে ডিএসইর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রেগুলেটরির দায়িত্বের অংশ হিসেবে সুপারিশ না করার কারণে এ বিষয়ে ডিএসইর কাছে ব্যাখ্যা তলবের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোনার্ক হোল্ডিংসের মালিকানায় রয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার ও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ‘ডামি নির্বাচনে’ মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান ও তার বাবা আবুল কালাম মাতবর; পুঁজিবাজারে বহুল আলোচিত কারসাজিকারক আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান ও জাভেদ এ মতিন। এদের মধ্যে সাকিব আল হাসানের বাবা এক শতাংশ শেয়ারের মালিক। সাকিবসহ বাকি তিনজনের প্রত্যেকের মালিকানায় রয়েছে ৩৩ শতাংশ করে শেয়ার। বর্তমানে সাকিব আল হাসান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, শেয়ারবাজারে কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন সাকিব আল হাসান, আবুল খায়ের হিরু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জরিমানা আরোপ করে। শেয়ারবাজারে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংয়ের দায়ে সাকিব, হিরুসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। শেয়ারবাজারে কারসাজির সিন্ডিকেট তৈরি করে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এ চক্রটি।

জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে মোনার্ক হোল্ডিংসের স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারের সনদ নবায়নে সুপারিশ করে ডিএসই। কিন্তু মোনার্ক হোল্ডিংসের মালিক হিসেবে সাকিব আল হাসান, কাজী সাদিয়াসহ তাদের বিরুদ্ধে বিএসইসি যেসব জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা দায়েরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করেনি শেয়ারবাজারের প্রাইমারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ না করার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসইর কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়।

প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকার কারণে এমনটি হয়েছে বলে ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়। একইসঙ্গে ছক অনুযায়ী তথ্য দিলেও মোনার্ক হোল্ডিংসের সনদ বাতিল কিংবা নবায়নের কোনো সুপারিশ করেনি ডিএসই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মাসুদ খানের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত কমিশন ডিএসইর কাছে সুপারিশ না করার কারণ জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা তলব এবং চিঠি প্রাপ্তির পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ কমিশনে প্রেরণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ারের সঙ্গে মোবাইলে ও খুদেবার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন