ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বড় লোকসানে চীনের তিন এয়ারলাইন

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বড় লোকসানে চীনের তিন এয়ারলাইন
ছবি: রয়টার্স

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে চীনের তিনটি বৃহৎ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এয়ারলাইন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের সম্মিলিত নিট লোকসান হয়েছে প্রায় ৮২০ কোটি ইউয়ান বা ১২০ কোটি ডলার।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নিয়ে টানা সপ্তম বছরের মতো বছরের প্রথমার্ধে লোকসান গুনল চীনের এই তিন শীর্ষ এয়ারলাইন।

বিজ্ঞাপন

গত মাসে তিনটি প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছিল, প্রথম ছয় মাসে তাদের সম্মিলিত লোকসান ৯০০ কোটি ইউয়ান পর্যন্ত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮২০ কোটি ইউয়ানে।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াই এই লোকসানের অন্যতম প্রধান কারণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটে বিঘ্ন ঘটায় এয়ারলাইনগুলোর আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক রুটে বিঘ্ন এবং জেট ফুয়েলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকায় তাদের মুনাফার পরিবেশ ‘মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে।

প্রথম ছয় মাসে তিনটি এয়ারলাইনেই জ্বালানি ব্যয় ৩৫ থেকে ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়ার ফলে পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

চীনের এয়ারলাইনগুলোর জন্য আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো জ্বালানি দামের ওঠানামা। এশিয়া ও ইউরোপের অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারলাইন যেখানে আগাম চুক্তি বা হেজিংয়ের মাধ্যমে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করে, চীনা এয়ারলাইনগুলো সেখানে তুলনামূলকভাবে খুব কম জ্বালানি হেজ করে।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে চীনা এয়ারলাইনগুলোর ব্যয়ের ওপর তার প্রভাব দ্রুত পড়ে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাজারে তৈরি হওয়া মূল্যধাক্কাও তাদের ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করেছে।

জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রুটে বিঘ্ন—এ দুই চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে চীনের তিন বৃহৎ রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন আবারও বড় লোকসানে পড়েছে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন