পুঁজিবাজারকে প্রাতিষ্ঠানিক ও পেপারলেস করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

পুঁজিবাজারকে প্রাতিষ্ঠানিক ও পেপারলেস করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পুঁজিবাজারকে ইনস্টিটিউশনাল বেসড ও সম্পূর্ণ পেপারলেস করার আহ্বান জানান। তিনি আইসিবিকে ঐতিহ্যগত ধারা থেকে বের হয়ে সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক এবং পেশাদার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা প্রদান করেন। দেশের পুঁজিবাজার এবং আর্থিক খাতের আধুনিকায়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সুবর্ণজয়ন্তী ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইসিবি প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাজারভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলা। সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে আইসিবির মাধ্যমে মূলধন বাজারে এনে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত রিটেইল (খুচরা) বিনিয়োগকারী নির্ভর । সারা বিশ্বে ক্যাপিটাল মার্কেট প্রধানত ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টরদের দ্বারা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে রিটেইল-বেসড অবস্থান থেকে ইনস্টিটিউশনাল-বেসড মার্কেটে পরিণত করতে আইসিবিকে ভূমিকা পালন করতে হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জোড় দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ আর্থিক খাতের শীর্ষ পদগুলোতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সুদৃঢ় নীতি অনুযায়ী কোনো ব্যাংকিং বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো নিয়োগ প্রদান করা হবে না।

মন্ত্রী বলেন, এসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজ এবং আইসিবিসহ পুঁজিবাজারের প্রতিটি স্তরে শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। No Paper Transaction, Nothing Paper নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অর্থ মন্ত্রী জানান, এখন থেকে লিস্টিং অ্যাপ্লিকেশন, পারমিশন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সমস্ত কার্যক্ৰম অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।

সম্প্রতি নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড স্ট্রিটে বিশ্বসেরা ১৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের (যাদের নেটওয়ার্ক প্রায় ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফল প্রাতঃরাশ বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক সংস্কারে আস্থা প্রকাশ করেছেন। প্রাইভেট ফান্ড, ক্লাইমেট ফান্ডিং ও ডেরিভেটিভস পণ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে গ্লোবাল ক্যাপিটাল আনার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে হাই স্ট্রিট ব্যাংকস নির্ভরতা থেকে বের হয়ে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট মানের আন্তর্জাতিক চর্চায় অভ্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অর্থ মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আইসিবি তার অতীত অভিজ্ঞতা ও অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানের এবং দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান, অর্থ বিভাগের সচিব ড.মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন