আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জাইকার খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে উদ্যোক্তাদের ১২৫ কোটি টাকা ঋণ

আমার দেশ অনলাইন

জাইকার খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে উদ্যোক্তাদের ১২৫ কোটি টাকা ঋণ

জাইকার সহায়তায় বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদেরকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শতকরা ৯ ভাগ সুদে ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩১ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার সরকারি সংস্থা Bangladesh Infrastructure Finance Fund Limited (BIFFL)-এর প্রধান কার্যালয়ে এই বিষয়ে সংস্থাটির সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে এসএমই ফাউন্ডেশন। এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং BIFFL-এর পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. আনিসুজ্জামান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বিজ্ঞাপন

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, চুক্তির আওতায় BIFFL-এর Food Value Chain Improvement Project এর তহবিল থেকে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে।

JICA এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য, খাদ্য ভ্যালু চেইন উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা উন্নয়ন। প্রকল্পের আওতায় সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের আওতায় আসবে। বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে নারী-উদ্যোক্তাদের। অর্থায়নের আওতায় আনা হবে ফল, শাকসবজি ও মসলা প্রক্রিয়াজাতকরণ, চাল ও ডাল প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোজ্য তেল উৎপাদন, বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ, জৈব সার ও বায়োপেস্টিসাইড উৎপাদন, পাশাপাশি হোলসেল, লজিস্টিকস ও খুচরা খাতকে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় মূলধনী বিনিয়োগ যেমন যন্ত্রপাতি, মেশিনারি, কারখানা অবকাঠামো উন্নয়ন, গুদাম নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্টিং অবকাঠামোতে অর্থায়ন করা হবে।

পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান, পরামর্শ সেবা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত মান (যেমন ISO, HACCP এবং halal certification) উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সহায়তা প্রদান করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তার, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. আব্দুর সালাম সরদারসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ফুড ভ্যালু চেইন শক্তিশালী হবে, আমদানি নির্ভরতা কমবে, রপ্তানির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০% শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯৯% কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫% সিএমএসএমই খাতে। এই খাতে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি জনবল কর্মরত আছে। অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা এবং এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী প্রায় ২০ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, যাদের ৬০%-ই নারী-উদ্যোক্তা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন