পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের পর তিন মাসের বেশি পার হলেও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও উপপরিচালকসহ (ডিপিডি) প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিতে পারেনি সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা।
ভারতের পানি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৬ জেলার ১২৩ উপজেলার জীববৈচিত্র্যে প্রাণ ফেরাতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় অর্থ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রেখেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য জানিয়েছে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে লোকবল নিয়োগের অর্গানোগ্রাম অনুমোদন হলেও জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকৌশলীদের মধ্যে টানাপোড়েনের কারণে পিডি নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না। পরিবেশ ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরামর্শক নিয়োগের বিষয়টিও ঝুলে গেছে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা। তবে আগামী বছরে সরকারের বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করতে পারেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নতুন সরকারের তৃতীয় একনেক সভায় গত ১৩ মে সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে ৭ বছর। বহুল প্রত্যাশিত ও জনআকাঙ্ক্ষার পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পানি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সনদ, রীতিনীতি ও আইন লংঘন করে ভারত যেভাবে দুদেশের অভিন্ন নদীগুলো থেকে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের কৃষিসহ পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছেÑতা টাকার অঙ্কে নিরূপণযোগ্য নয়। এ অবস্থায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন খুবই জরুরি।
সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, পিডি ও ডিপিডিসহ জনবল নিয়োগে ১২০ জনের একটি কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) অনুমোদন হয়েছে। টেকসই ও পরিবেশসম্মতভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনি ইশতেহার ও জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প হিসেবে এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তারা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ দৃষ্টির কথাও বলেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেগা প্রজেক্ট হিসেবে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প থেকে যাতে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা আসে, সেদিকে লক্ষ রেখে এটি বাস্তায়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এ নির্মাণকাজ তদারকি করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকারের এক বছর পূর্তির দিনে এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করতে চান প্রধানমন্ত্রীÑএমন নির্দেশনার কথাও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীতে প্রবাহিত পানির ন্যায্য হিস্যা উভয় দেশই প্রাকৃতিক নিয়মে পেয়েছে। ১৯৬০ সালের দিকে ভারত গঙ্গাসহ কয়েকটি নদী থেকে আইন অমান্য করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার শুরু করে। পরের বছরই পূর্ব পাকিস্তান পানি উন্নয়ন বোর্ড (ইপওয়াডা) পদ্মার পানির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের পানি আগ্রাসন মোকাবিলার বিষয়ে সমীক্ষা চালায়। পরে ২০০০ সাল পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে পাউবো চারটি প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে।
পাউবোর নথি থেকে জানা যায়, ২০০২ সালে দেশের পানিসম্পদের সামষ্টিক পরিকল্পনাকারী সংস্থা ওয়ারপো কুষ্টিয়া অথবা রাজবাড়ী জেলায় এ-সংক্রান্ত ব্যারাজ নির্মাণের সুপারিশ করে। এ নিয়ে প্রকল্পের বিষয়ে দাপ্তরিক কাজ বেশ কিছুদূর এগোয়। পরে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বিস্তৃত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রকৌশল নকশা প্রণয়ন করা হলেও ভূরাজনৈতিক কারণে তা থেমে যায়। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এ প্রকল্প নিয়ে উদ্যোগী হয়। একনেকে উপস্থাপন করা হলেও শেষ পর্যন্ত এটি নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে বলে প্রস্তাবটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তৃতীয় একনেক সভায় এটি উপস্থাপন করা হয়। আলোচনা-পর্যালোচনার পর প্রকল্প বাস্তবায়নের পক্ষে সিদ্ধান্ত হয় এবং এটি অনুমোদনও হয়। তবে বর্তমানে যে গতিতে কাজ চলছে, তাতে আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটির নির্মাণকাজ শুরু করা নিয়ে সংশয় দেখছেন পাউবো কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার, তা এখনো দৃশ্যমান নয়।
নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে টানাপোড়েন
পদ্মা ব্যারাজের জন্য পদ ও জনবল নির্ধারণ-সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা ও পাউবোর প্রকৌশলীদের মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈঠকে পাউবো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ৪৬০টি পদের প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে পিডি হিসেবে পাউবোর প্রধান প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং ডিপিডি হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নাম প্রস্তাব করা হয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা তাদের এ প্রস্তাব নাকচ করে পিডি হিসেবে একটি পদ অনুমোদন করলেও তাতে ‘প্রধান প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী’ অংশটি বাদ দেওয়া হয়। সে সঙ্গে ৪৬০ পদের প্রস্তাবের বিপরীতে ১২০ পদের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান থেকে পিডিসহ প্রেষণে ৭৩ পদ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৪৭ পদ পূরণের কথা বলা হয়েছে।
অনুমোদিত জনবলের বিষয়ে পাউবোর একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক এ মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অবশ্যই কারিগরিভাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলী প্রয়োজন। তাছাড়া এ প্রকল্পটি পাউবোর প্রস্তাবনা অনুযায়ী একনেক অনুমোদন করেছে। পিডি পদটি জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেদের আওতায় নিতে চান বলে এ পদটি থেকে প্রকৌশলীদের বাইরে রাখা হয়েছে।
অপরদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের সঙ্গে পুরো দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট যুক্ত। এর সঙ্গে রাজনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাও জড়িত। প্রকল্পটির পিডি নিয়োগের বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা ঠিক করবেন। এ পদটিকে শুধু একটি সেক্টর বা কমিউনিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে সরকারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
অপেক্ষায় ১৬৩ উপজেলার মানুষ
ভারতের ফারাক্কা বাঁধকে বাংলাদেশের জন্য ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্ষা মৌসুমের শেষদিকে ব্যারাজে পানি সংরক্ষণ শুরু হবে। ১০-১৫ দিনের মধ্যেই এ ব্যারাজের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ২.৯০ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ হবে। এখান থেকে সেচ প্রকল্পগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে চরম শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ব্যারাজ থেকে এর ভাটিতে ৫৭০ কিউসেক পানি ছাড়া সম্ভব হবে। শুধু ব্যারাজে সংরক্ষিত পানি দিয়েই ফারাক্কায় পানি প্রত্যাহারের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সৃষ্ট বিপর্যয়ের অধিকাংশই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের জনবলের যৌক্তিকতা তুলে ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যবিবরণীতে আরো বলা হয়েছে, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের এই প্রকল্পটি পাউবোর জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ইতঃপূর্বে তিস্তা ব্যারাজ তৈরি করা হয়েছে। তারই আলোকে পদ্মা নদীর উভয় পাশের ২৬ জেলার ১৬৩ উপজেলাব্যাপী এর কার্যক্রম বিস্তৃত থাকবে। নবসৃষ্ট জলাধারে পানি সংরক্ষণপূর্বক মৃতপ্রায় ৫টি নদীকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ৯ লাখ ২৭ হাজার স্থায়ী কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এ কারণে ৭ বছরব্যাপী এ প্রকল্পকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে জনবল ও যানবাহন অনুমোদন করা প্রয়োজন। প্রকল্প পরিচালনার জন্য ঢাকায় পিডির অফিসসহ রাজবাড়ীর পাংশা এবং পাবনার সুজানগরে দুটি সাইট অফিস নির্মিত হবে। এসব সাইট অফিসে প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কনসালটেন্টরা সার্বক্ষণিক অবস্থান করবেন।
প্রকল্পের কাজ দ্রুত করার পরামর্শ
পদ্মা ব্যারাজ দেশের জন্য অত্যাবশ্যকীয় প্রকল্প। দ্রুততার সঙ্গে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের উদ্যোগকে দৃশ্যমান করার পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। আমার দেশকে তিনি বলেন, দেশের বিশাল অংশের জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। সরকারের মনোযোগ দিতে হবে এ প্রকল্পের প্রতি।
পাশাপাশি এর বাস্তবায়নযোগ্যতাও সমীক্ষা করে দেখতে হবে বলে মনে করেন সাসটেইনেবল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গবেষক, সবুজ জ্বালানি ও গ্রিন টেকনোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শহীদুল ইসলাম। আমার দেশকে তিনি বলেন, এ প্রকল্পের কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি লঙ্ঘন করে ভারত আমাদের পানি দিচ্ছে না। দিলেও সেটা নামমাত্র। এ প্রকল্পের জন্য যে পরিমাণ পানি প্রয়োজন হবে, সেটার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষায় ব্যারাজের মধ্যে যে পলি বা বালু জমবে, তার ধরন ও প্রকৃতি নিরূপণ করতে হবে। এ বালুকেও সম্পদ হিসেবে কাজে লাগতে হবে, যাতে পানির রিজার্ভার পরিষ্কার থাকার পাশাপাশি বালু বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়।
তিনি বলেন, দীর্ঘ রিজার্ভারে টারবাইন ও সৌর প্যানেল স্থাপন করে এখান থেকে কমপক্ষে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎও উৎপাদন সম্ভব হবে। আধুনিক টেকনোলজি ও চিন্তার প্রয়োগের মাধ্যমে অবশ্যই বিনিয়োগের অর্থও তুলে নেওয়া সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে এটি যাতে লায়াবিলিটি (বোঝা) না হয়ে অ্যাসেট হয়, সে ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সমীক্ষা চালাতে হবে ।
ভারতের পানি প্রত্যাহারকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের পানি আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার আমার দেশকে বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি লংঘন করে অভিন্ন সব নদী থেকে একতরফা পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতকে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি। আমরা এটির জন্য অপেক্ষা করছি। সরকারের উচিত দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা।
ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরুর আশা সরকারের
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে সরকার। আগামী বছরের জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন বলেও জানান তিনি।
দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। সরকারের এক বছর পূর্তির মধ্যে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে এবং সরকারের এক বছর পূর্তিতে এ মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করা সম্ভব হবে কি না—এ বিষয়ে আমার দেশকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ ওয়াদা ছিল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। গত ১৩ মে একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। এর ডিপিপি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে পানি ভবনে পাঠিয়েছি। আমাদের যারা ইঞ্জিনিয়ার আছেন, তাদের মাধ্যমে সেটি আরো যাচাই-বাছাই চলছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী বছরের শুরুতে, অর্থাৎ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে পদ্মা ব্যারাজের দৃশ্যমান কাজ শুরু করতে পারব। সরকারের এক বছর পূর্তির মধ্যেই কাজ শুরু করতে পারব ইনশাল্লাহ।’
সম্পাদনা: আফজাল
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


