ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন যুগোপযোগী করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন যুগোপযোগী করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধনের মাধ্যমে সেটিকে যুগোপযোগী করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ব্যবসা সহজীকরণে আইনটি সংশোধনে মতামত দিতে যতদিন সময় লাগে ব্যবসায়ীদের ততদিন দেওয়া হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মতামত দিতে ৩০ দিন লাগলে ৩০ দিন নেন, ৬০ দিন লাগলে ৬০ দিন নেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে আমাদের আরো এজেন্ডা আছে।

সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে কোম্পানি আইন-১৯৯৪-এর খসড়া সংশোধনী নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে এ সময় দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও শিল্প খাতের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৪ সালে কোম্পানি আইন প্রণয়নের পর দুবার সংশোধন করা হয়েছে। বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনটিকে আরও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ম ও পদ্ধতি সহজীকরণের ক্ষেত্রে বিশ্বের যেসব দেশ ভালোভাবে কার্যকর ব্যবস্থা পরিচালনা করছে, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, আজ যে ড্রাফট আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, ড্রাফটটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা ভালোভাবে স্টাডি করার জন্য আপনারা যে সময় চেয়েছেন, ৩০ দিন—সময় নেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোম্পানি আইন প্রণয়নের পর এর বাস্তব প্রয়োগ করবে বেসরকারি খাত। তাই আইনটি এমনভাবে সংশোধন করতে হবে, যাতে উদ্যোক্তারা সহজে, স্বাভাবিকভাবে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। তিনি বলেন, সংশোধনী নিয়ে ব্যবসায়ীদের ভালো ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিতে হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের কোম্পানি আইনের সঙ্গে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো তুলনা করে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

বেসরকারি খাতকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোম্পানি আইন সংশোধনের ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি পরিবর্তনের সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে ধৈর্য ধরে ভালো পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগামী তিন বছরে সরকারকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কোম্পানি আইন সংশোধন সেই বৃহৎ কর্মপরিকল্পনার অনেকগুলো উপাদানের মধ্যে মাত্র একটি।

আইনটি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের কয়েকশ এলিমেন্টের মধ্যে মাত্র একটা।

সরকার ও বেসরকারি খাত উভয়েরই কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে খন্দকার আবদুল মক্তাদির বলেন, পর্যাপ্ত রিজার্ভ, ফিসক্যাল সারপ্লাস বা বাজেটারি সারপ্লাস না থাকা এবং সীমিত সম্পদের মধ্যেই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতও প্রতিনিয়ত নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটা এমন একটা ট্রানজিশন টাইম আমাদের সবার জন্য, যখন মাথা ঠান্ডা রেখে একটা ভালো পরিকল্পনা নিয়ে এই সময়টা পার হতে হবে— যাতে ভবিষ্যতের একটি বাস্তবসম্মত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যায়।

মতবিনিময় সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির। আইনের খসড়া প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডিাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), এপেক্সের এমডি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আবদুল হক এবং ট্রান্সকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন