ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহনকারী হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে প্রকৃত ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করবে এবং সংকটের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তেলের চাহিদা কমে যাবে। এর ফলে অর্থনীতি সংকুচিত হতে শুরু করবেÑসর্বপ্রথম এ সংকটের মুখোমুখি হবে এশিয়া।
গত সোমবার মিলকেন ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনায় এসব কথা বলেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও প্রভাবশালী আমেরিকান কোম্পানি শেভরনের চেয়ারম্যান ও সিইও মাইক ওয়ার্থ। খবর রয়টার্সের।
তিনি বলেন, দ্রুতই আমরা প্রকৃত ঘাটতি দেখতে শুরু করব। বাণিজ্যিক বাজারের উদ্বৃত্ত সরবরাহ, নিষেধাজ্ঞামুক্ত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ (ছায়া বহরে) ট্যাংকার এবং বিভিন্ন দেশের কৌশলগত মজুত শেষ হয়ে আসছে। সরবরাহের সঙ্গে তাল মেলাতে চাহিদাকে হ্রাস পেতে হবে। ফলে অর্থনীতির গতি ধীর হতে বাধ্য।
তিনি আরো বলেন, এশিয়া পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদন ও শোধনাগারের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। তাই তারাই প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এরপর ইউরোপে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়ার্থ জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অপরিশোধিত তেলের নিট রপ্তানিকারক হওয়ায় বিশ্বের অন্যান্য অংশের তুলনায় কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে শেষ পর্যন্ত সেখানেও এর প্রভাব অনুভূত হবে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেলের শেষ নির্ধারিত চালানটি লং বিচ বন্দরে খালাস করা হচ্ছে, যা লস অ্যাঞ্জেলেস এবং দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সরবরাহ করা হয়।
তার মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের সামগ্রিক প্রভাব ‘সম্ভাব্যভাবে ১৯৭০-এর দশকের মতোই বড়’ হতে পারে। ওই দশকে দুটি বড় সরবরাহ বিপর্যয় বিশ্ব অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। যার ফলে জ্বালানি রেশনিং এবং খুচরা পাম্পগুলোয় দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছিল।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং জেট ফুয়েলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় গত শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্পিরিট এয়ারলাইনস তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে তাদের কোনো বিমান আর চলাচল করছে না এবং কোম্পানিটি তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এমপি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

