ঘাটে শত শত ট্রাকের জট, সাত দিন পর সচল বাঁশবাড়িয়া নৌপথ

ঘাটে শত শত ট্রাকের জট, সাত দিন পর সচল বাঁশবাড়িয়া নৌপথ
ফেরিঘাটে সারি সারি ট্রাক।

বৈরী আবহাওয়া ও সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেতের কারণে টানা সাত দিন বন্ধ থাকার পর সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া-সন্দ্বীপ নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। ১২ আগস্ট থেকে নৌপথটি বন্ধ থাকায় ঘাটে আটকে পড়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক।

বিজ্ঞাপন

ফেরিঘাটের ইনচার্জ প্রফুল্ল চৌহান বলেন, সিগন্যালের কারণে গত ১২ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। সিগন্যাল ডাউন দেওয়ায় ১৯ আগস্ট বিকেল থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আবহাওয়ার ওপর কারও হাত নেই। যখনই সিগন্যাল ওঠে, নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়। নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের টার্মিনালের মধ্যে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সিগন্যালের কারণে মালামালবোঝাই ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়লে আমাদের করার কিছু থাকে না।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। আজ থেকে আবার ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কথা রয়েছে।

ঘাট সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় গত ১২ আগস্ট চট্টগ্রামসহ চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এরপরই বাঁশবাড়িয়া-সন্দ্বীপ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি ও সতর্কসংকেত প্রত্যাহারের পর ১৯ আগস্ট বিকেল থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়।

সাত দিন ফেরি বন্ধ থাকায় ঘাটে আটকে থাকা ট্রাকগুলোর পচনশীল পণ্যের একটি অংশ নষ্ট হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে মূল ভূখণ্ড থেকে সন্দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দ্বীপের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

দীর্ঘ সময় ঘাটে অবস্থান করতে গিয়ে খাবার, সুপেয় পানি ও শৌচাগারের সংকটে পড়েছেন ট্রাকচালক ও হেলপাররা। ফেরি বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে সন্দ্বীপগামী সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

ফেরি চালু হলেও ঘাটে জমে থাকা শত শত ট্রাক দ্রুত পারাপার করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করতে হবে। বিলম্ব হলে আরও পণ্য নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন