পণ্য নেই, তবু রপ্তানি! সাড়ে ৫ কোটি টাকার কারসাজি

পণ্য নেই, তবু রপ্তানি! সাড়ে ৫ কোটি টাকার কারসাজি

পণ্য ছাড়াই শুধু কাগজের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানির ৫টি ভুয়া চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি রপ্তানির এ ভুয়া চালানপত্র তৈরি করে এবং পণ্যের গন্তব্য হিসাবে আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনের নাম উল্লেখ ছিল।

পণ্য রপ্তানিতে ব্যবহৃত কাস্টমসের সফটওয়্যার ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে’ পণ্য রপ্তানির ওই তথ্যও মিলেছে। কিন্তু বাস্তবে কন্টেইনার ডিপোতে পণ্যের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার এনবিআর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করা সত্ত্বেও চালানগুলোর কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা কীভাবে সম্পন্ন হলো, সে বিষয়ে ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ডিপোর সংশ্লিষ্টতা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য কাস্টমস ও অন্যান্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনবিআর জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে রপ্তানি কনসাইনমেন্ট যাচাইকালে ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের ৫টি রপ্তানি চালান কাস্টমস গোয়েন্দার নজরে আসে। প্রাথমিক বিশ্লেষণেই রপ্তানির গন্তব্য দেশ, পণ্যের প্রকৃতি ও ঘোষিত মোট ওজনের মধ্যে অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হওয়ায় চালানগুলো আটক করে অধিকতর যাচাই শুরু করা হয়।

সাধারণত বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ—বিশেষ করে জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড ও ডেনমার্ক—এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এছাড়া জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও রাশিয়াতেও তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়ে থাকে। কিন্তু ৫টি চালানের গন্তব্য হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইন উল্লেখের কারণে গোয়েন্দাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। এছাড়া বন্ডেড প্রতিষ্ঠানটির বিগত এক বছরে আমদানিকৃত কাঁচামালের পরিমাণের তুলনায় ঘোষিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি পাওয়া যায়।

দাখিলকৃত বিল অব এক্সপোর্টের-এর তথ্য অনুযায়ী পণ্যগুলো ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামীয় ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো থেকে রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তারা সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট ডিপোতে গিয়ে পণ্যগুলো পরীক্ষণের জন্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। কিন্তু ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনো পণ্যই প্রদর্শন করতে পারেননি। বরং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রপ্তানির জন্য ঘোষিত পণ্যগুলো ডিপোতেই প্রবেশ করেনি।

৫টি রপ্তানি চালানে ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি পণ্য রপ্তানি এবং ঘোষিত পণ্যের রপ্তানিমূল্য ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ১২১ মেট্রিক টন পণ্যের বিপরীতে প্রায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার রপ্তানি দেখানো হলেও সরেজমিন যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ডিপোতে ঘোষিত পণ্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন