অনিশ্চয়তা কাটিয়ে একনেকে উঠছে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে একনেকে উঠছে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প
আমার দেশ গ্রাফিক্স

ছয় মাস অনিশ্চয়তায় থাকার পর অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো উদ্যোগ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব। একনেক সভায় এটিসহ আরো আট প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে।

আগামী বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠেয় একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি উপস্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পরিকল্পনা বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এক্সপ্রেসওয়ে সংশোধনী অনুমোদিত হলে প্রকল্পটির নকশায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ অন্তর্ভুক্ত হবে। এগুলো হলো—বাইপাইল ইন্টারচেঞ্জ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে প্রবেশ ও বহির্গমন সুবিধা এবং নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-১ (পাতাল মেট্রোরেল)-এর সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগ। এসব সংযোজনের ফলে রাজধানী ও আশপাশের সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একইসঙ্গে প্রকল্পটির ব্যয়ও বড় পরিসরে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। শুরুতে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হলেও পরে প্রথম সংশোধনীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরো ৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা যোগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদন মিললে মোট ব্যয় হবে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা, যা মূল প্রাক্কলনের তুলনায় প্রায় ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, ভ্যাট ও আয়কর কাঠামোর পরিবর্তন, কাস্টমস শুল্ক বৃদ্ধি, ইউটিলিটি স্থানান্তর, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক সেবার ব্যয় এবং নতুন অবকাঠামো সংযোজনের কারণে ব্যয় পুনঃনির্ধারণের প্রয়োজন হয়েছে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় চীনের অর্থায়নে। প্রকল্পের অর্থায়নের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাঁচ হাজার ৯৫১ কোটি ৪১ লাখ এবং চীনের ঋণ থেকে ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর কাওলা থেকে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো, বাইপাইল ও সাভার ইপিজেড হয়ে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ওঠানামার সুবিধার জন্য একাধিক সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজও চলছে। এটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনের রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একইসঙ্গে বিমানবন্দর এলাকা, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, এশিয়ান হাইওয়ে এবং দেশের বিভিন্ন জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।

প্রকল্পটির অগ্রগতি বিবেচনায় সময়সীমাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঋণচুক্তি সম্পন্ন হতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের কাজ পিছিয়ে যায়। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। বর্তমানে অবশিষ্ট নির্মাণ শেষ করতে আরো চার বছর সময় চেয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নতুন সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৭৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এতে আর্থিক অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ভৌত কাজের অগ্রগতি ৫২ শতাংশ অতিক্রম করেছে। তবে বাস্তবায়নকারী সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৫৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে একই বৈঠকে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি আরো আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভোলা জেলার নদীভাঙন প্রতিরোধ, বৃহত্তর দিনাজপুরে সমন্বিত উন্নয়ন ও পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার, বেগমগঞ্জ ও সুনেত্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত প্রকল্প।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন