নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের আম ও আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্যের প্রদর্শনী ও উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। ‘বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি’ শীর্ষক এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎকৃষ্ট মানের আম, সমৃদ্ধ কৃষি ঐতিহ্য এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হয়।
শনিবার দূতাবাস সংলগ্ন উৎসব কুঞ্জ ব্যাংকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের যুগ্মসচিব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নেপাল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, আমদানিকারক, গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আম শুধু একটি ফল নয়, এটি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষি ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উৎকৃষ্ট আম উৎপাদনকারী দেশ। খিরসাপাত (হিমসাগর), হাড়িভাঙ্গা, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, আম্রপালি, আশ্বিনা, কাটিমন, গৌরমতি ও বারি আমসহ বিভিন্ন জাতের আমের আন্তর্জাতিক সুনামের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, দেশের বিজ্ঞানীরা দেরিতে ফলনশীল নতুন জাতের বারি আম উদ্ভাবন এবং বিদেশি জাতের সফল অভিযোজনের মাধ্যমে আম গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি খাত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আমের জুস, নেকটার, পাল্প, জ্যাম, আচার, চাটনি, শুকনো আম, ক্যান্ডি, ফ্রুট বার ও বিভিন্ন মূল্যসংযোজিত পণ্য উৎপাদন করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সার্ক মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আম উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও এ অঞ্চলের আম ও আমজাত পণ্যের রপ্তানি এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষিখাতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষ অতিথি গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী বলেন, এ আয়োজন বাংলাদেশের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার পরিচয় বহন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। তিনি রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের ‘ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি’ উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সফল আমচাষি রফিকুল ইসলাম গত ১৫ বছরের আমচাষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (GAP) অনুসরণ করে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের বিভিন্ন পদ্ধতি অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন।
প্রদর্শনীতে রাজশাহীর মৌসুম-পরবর্তী ফজলি, আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, গৌরমতি ও আশ্বিনাসহ বিভিন্ন জাতের তাজা আম প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি আমের জুস, আচার, ফ্রুট বার, শুকনো আম, চাটনি, জ্যাম ও জেলিসহ নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত পণ্যও প্রদর্শিত হয়। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় আমের কেক, ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস, ম্যাঙ্গো পুডিংসহ বিভিন্ন ডেজার্ট। এছাড়া বাংলাদেশে আম চাষ, দেশের সংস্কৃতি, পর্যটন ও ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রায় ২৫০ জন অতিথি এ উৎসবে অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নেপালে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং কৃষি ও খাদ্যপণ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


