মহিলা দল থেকে বহিষ্কার, কলেজে শোকজ; সাংবাদিককে গালাগালে ফের বিতর্কে নাইলা

মহিলা দল থেকে বহিষ্কার, কলেজে শোকজ; সাংবাদিককে গালাগালে ফের বিতর্কে নাইলা
নাইলা বেগম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ থেকে নাইলা বেগমকে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সালেহা আক্তার বলেন, দলীয় নিয়ম, নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি নাইলা ইসলামকে মহিলা দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই সিদ্ধান্ত জানানো হয় এবং বহিষ্কারাদেশ এখনো বহাল রয়েছে।

সালেহা আক্তার আরো বলেন, ‘অশালীন আচরণের কারণে আমি তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করেছিলাম। পরে মাফ চাওয়ায় মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে নায়লা ইসলাম বহিষ্কার হয়েছেন—এটা আমি জানি। বর্তমানে নবীনগর উপজেলায় মহিলা দলের কোনো কমিটি নেই।’

এরপর নাইলা যোগ দেন এনসিপিতে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেতে দলীয় ফরমও সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি। এ বিষয়ে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ আমার দেশকে বলেন, এনসিপির একটা ভালো সময় ছিল, তখন অনেক রাজনীতিবিদ, সুবিধাভোগী ও সুযোগ-সুবিধাপ্রত্যাশী মানুষ দলে এসেছেন। নির্বাচনে জোট হলে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, নির্বাচনে কত টাকা খরচ পাওয়া যাবে—এসব জানতেও অনেকে এসেছিলেন। ওই সময় নায়লা ইসলামও এসেছিলেন। তিনি কখনো নিজেকে শিক্ষক নেত্রী, বিএনপি নেত্রী, আবার কখনো নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে তিনি মনোনয়ন পাননি।

এনসিপির মনোনয়ন না পাওয়ার পর নায়লা ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নানের নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সভায় তাকে আবদুল মান্নানের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

নাইলা ইসলাম ডেমরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে শিক্ষকতা করেন। তিনি এ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তার বিরুদ্ধে এ কলেজে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও শিক্ষকসুলভ আচরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে, গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. শফিউল করিম আমার দেশকে বলেন, কলেজের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কিছু অভিযোগ ওঠায় নাইলা ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ ড. নূরে আলম বলেন, ‘নাইলা ইসলাম নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হন না। ক্লাসে গেলেও বিভিন্ন সময়ে ফোনে ব্যস্ত থাকেন এবং ঠিকমতো পাঠদান করেন না। একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। তাকে বেশ কয়েকবার বলেছি নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে আসতে। এটা একটা কলেজ। কিন্তু তিনি আগের মতোই চলছিলেন। নিয়ম-শৃঙ্খলা মানতেন না। এসব কারণে গভর্নিং বডির সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে শোকজ করা হয়েছে। বিষয়গুলো বর্তমানে কমিটির কাছে বিচারাধীন।’

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নাইলা বেগম আবারও নবীনগরের রাজনীতিতে সরব হওয়ার চেষ্টা করছেন—এ ধরনের খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে নবীনগরের বিভিন্ন ফেসবুক পেজে চলছে লেখালেখি। এ বিষয়ে জানতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার হোয়াটস অ্যাপে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠান আমার দেশের উপজেলা প্রতিনিধি জালাল উদ্দিন মনির। এতে তিনি কোনো সাড়া দেননি। এরপর মনির তার মুঠোফোনে কল দেন। তিনি সালাম দিয়ে নিজের নাম-পরিচয় দিতেই নাইলা উত্তেজিত হয়ে তার মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন।

এ নিয়ে একটি অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা ও উপজেলার সাংবাদিকেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, সাধারণ সম্পাদক বাহার মোল্লা, নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ উজ্জ্বল, সাবেক সভাপতি মাহবুব আলম লিটন ও শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তীসহ স্থানীয় সাংবাদিকেরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একইভাবে নবীনগর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি শাহীন রেজা টিটো, নবীনগর নিউ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি খলিল পরদেশী, মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তাদের বক্তব্য, একজন গণমাধ্যমকর্মীর তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। কেউ তথ্য দিতে না চাইলে তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারেন। কিন্তু কোনো সাংবাদিককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ কিংবা অশালীন ভাষায় গালমন্দ করা অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা নায়লা ইসলামের এমন আচরণের নিন্দা জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন