গভর্নরের সঙ্গে বিসিআইয়ের বৈঠক

দুর্বল শিল্পকারখানায় দ্রুত অর্থায়নের আহ্বান ব্যবসায়ীদের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

দুর্বল শিল্পকারখানায় দ্রুত অর্থায়নের আহ্বান ব্যবসায়ীদের

দুর্বল শিল্পকারখানায় দ্রুত অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এ দাবি তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার বেলা ৫টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ।

আনোয়ারুল আলম বলেন, একটি কারখানা একবার বন্ধ হয়ে গেলে সেটিকে আবার সচল করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বন্ধ শিল্পে নতুন করে অর্থায়নের পরিবর্তে বর্তমানে চালু থাকলেও দুর্বল অবস্থায় থাকা শিল্পকারখানাগুলোকে দ্রুত সহায়তা দেওয়া জরুরি। এতে কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে এবং অর্থনীতির ওপর চাপও কমবে।

পারভেজ বলেন, করোনা-পরবর্তী সময় থেকেই শিল্পখাতে কার্যকর মূলধনের সংকট তৈরি হয়েছে। এরপর গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, সুদহার বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে উৎপাদন খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও মনে করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে শিল্পখাতকে টিকিয়ে রাখা জরুরি। সেই বিবেচনা থেকেই গভর্নরের কাছে কিছু বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখা যায় এবং উৎপাদন সক্ষমতা বজায় থাকে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এলসি সীমা (এলসি লিমিট) সংক্রান্ত জটিলতা কমানোর দাবিও জানানো হয়। তারা বলেন, যেসব এলসি সীমা অতিক্রম করেছে, সেগুলো আলাদাভাবে ব্লক করে মূল সীমা সচল রাখা হলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে। পাশাপাশি বিদেশি তহবিল ও রিফাইন্যান্সিং সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়, যাতে কম সুদে অর্থায়ন পাওয়া যায় এবং উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হয়।

সুদহার প্রসঙ্গে পারভেজ বলেন, ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যয় ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে হলেও অতিরিক্ত স্প্রেড যোগ করে ঋণের সুদ ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। সরকার চাইলে এই স্প্রেড কমিয়ে শিল্পখাতকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়ার পর অতিরিক্ত পেনাল ইন্টারেস্ট আরোপ শিল্পকারখানার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শাস্তি না দিয়ে বরং কীভাবে তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে ঋণ পরিশোধে সক্ষম হতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

সিআইবি রিপোর্টে ‘গ্রুপ কনসেপ্ট’ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, একই পরিচালক থাকার কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে গ্রুপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে একটি প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়লে অন্য ভালো প্রতিষ্ঠানও নেতিবাচক সিআইবি রিপোর্টের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ে। এ কারণে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এমএসএমই খাত নিয়েও গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পারভেজ। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে অনাগ্রহী। এছাড়া জটিল কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া সহজ করা, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল চালু এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। গভর্নর জানিয়েছেন, ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল, বিদেশি রিফাইন্যান্সিং এবং পেনাল ইন্টারেস্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ চলছে এবং শিগগিরই কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসাইন ও জসীম উদ্দীন, বিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, বিসিএমইএর চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম স্বপন, বিএমএএমএ সভাপতি মতিউর রহমান, বিজিএপিএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ শাহরিয়ার এবং বিসিআইয়ের সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তীসহ দেশের শীর্ষ শিল্প উদ্যোক্তারা।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...