শুধু ভালো ফলাফল করলেই মানুষ প্রকৃত অর্থে সফল হয় না। তাই ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠন ও মানুষের প্রতি মমত্বরোধ গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ, যোগাযোগ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
সোমবার রাজধানীর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘তোমাদের মতো কৃতী শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বরণ করা অত্যন্ত উদ্দীপনামূলক। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী ১৭ বছর ধরে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ছেলেখেলায় পরিণত করেছিল। শিক্ষা একটি জাতির জন্য কতটা জরুরি, সেটা বিবেচনা করা হয়নি।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেখ হাসিনা ভোট ডাকাতি ও ‘দিনের ভোট রাতে’ করার মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ধ্বংস করেছিলেন। দুর্নীতি করে রাষ্ট্রের সম্পদ লুটের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার চালু করেছিল।
হাবিবুর রশিদ হাবিব অভিযোগ করে বলেন, ‘শিক্ষার হার বাড়াতে অনৈতিকভাবে নকলের মাধ্যমে, প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি করে জাতির মানবিক মেরুদণ্ডকে বাঁশের মেরুদণ্ডে পরিণত করা হয়েছিল।’ এর ফলে মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা ও বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বাঁশের মেরুদণ্ড বা মেরুদণ্ডহীন ও দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। তাই আমরা মনে করি, শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনের বিকল্প নেই।’
বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। এই লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম, শিক্ষাবৃত্তি দ্বিগুণ করা, পাঠদান মনিটরিং এবং নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, ‘ওয়ান টিচার-ওয়ান ট্যাব’ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
হাবিবুর রশিদ আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতান্ত্রিক, জনবান্ধব, মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব। তাঁর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘সুশিক্ষায় গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রত্যয় ধারণ করে উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা অবশ্যই মেধাবী। কিন্তু শুধু মেধা দিয়ে জাতীয় সক্ষমতা তৈরি হয় না। মেধাকে গবেষণায়, গবেষণাকে উদ্ভাবনে, উদ্ভাবনকে উদ্যোগে এবং উদ্যোগকে কর্মসংস্থানে রূপ দিতে হবে।’
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘তোমরাই আগামী বাংলাদেশ, তোমরাই আমাদের আগামী স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের সব সমস্যার সমাধানে তোমরা হবে অধিনায়ক। তোমাদের হাত ধরেই আগামী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


