সেলিম প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছেন তার পরিবার ও স্বজনরা। তারা অভিযোগ করেছেন, কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে একের পর এক মামলায় জড়ানো হচ্ছে এবং জামিন পাওয়ার পরও পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখা হচ্ছে।
বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেলিম প্রধানের বোন স্মৃতি প্রধান, যিনি তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন।
স্মৃতি প্রধান বলেন, আমার ভাইকে বারবার মিথ্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ছোটবেলা থেকে জাপানে বেড়ে ওঠা সেলিম প্রধান দেশে ফিরে রূপগঞ্জ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেন। জাপানের মতো করে নিজ এলাকাকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ব্যাবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে নানা বাধা দেয়, বলেন তিনি।
স্মৃতি প্রধান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সেলিম প্রধানকে মিথ্যা মামলায় আটক করে চার বছরের বেশি সময় কারাগারে রাখা হয় এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। তখন তাকে বিএনপিকে আর্থিক সহযোগিতা করার অভিযোগে ফাঁসানো হয়। এখন আবার নতুন করে তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা মামলায় জেলবন্দি রাখা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, চব্বিশের জুলাই আগস্টের পক্ষে কাজ করা সেলিম প্রধানকে গত বছর বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। সে মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর একাধিকবার জেলগেট থেকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তিনি মামলাতে অন্তর্ভুক্ত আসামি না হয়েও অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন।
এ সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে সেলিম প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান স্মৃতি প্রধান। বলেন, আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, সেলিম প্রধানের বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমাদের এ অন্যায় ও হয়রানির হাত থেকে মুক্ত করুন এবং সেলিম প্রধানকে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী কারা তাদের চিহ্নিত করুন।
মানববন্ধনে সেলিম প্রধানের পরিবারের আরেক সদস্য রিয়াদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন জাপানে থাকার পর দেশে ফিরে সেলিম প্রধান ব্যবসা ও সমাজসেবায় যুক্ত হন। কিন্তু দেশে আসার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে তাকে জেলে রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সেলিম প্রধান সবসময় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং সমাজের অসংগতি তুলে ধরেছেন। তার ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষরা আগেও তার প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছে। এখনও তাকে জেলে রেখে সেই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেছেন, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি।
মানববন্ধনে সেলিম প্রধানের পরিবারের আরেক সদস্য মহিবুর রহমান জয় বলেন, অতীতে সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো একটাও প্রমাণিত হয়নি। আমরা এখন আর কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাই না। আজ আমাদের একটাই দাবি, সেলিম প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তি।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা দেশের সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিকের সমান বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তারা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান, বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একজন ভুক্তভোগী নাগরিককে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

