ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও কাশ্মীরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদ এবং বিশ্বব্যাপী মানবিক ঐক্যের দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে “পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও কাশ্মীরের মুসলিমদের বিরুদ্ধে দিল্লীর নিপীড়ন বন্ধে বিশ্বব্যাপী মানবিক ঐক্যের দাবিতে সমাবেশ” শীর্ষক এ কর্মসূচির আয়োজন করে নাগরিক পরিষদ।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহার, ত্রিপুরা ও কাশ্মীরসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানরা প্রতিনিয়ত নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “দিল্লির সাম্প্রদায়িক চরিত্র হিন্দুস্তানের মুসলমানদের জীবনকে বিষিয়ে তুলছে।”
তিনি আরও বলেন, গরুর গোশত খাওয়ার অভিযোগে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে, অন্যদিকে ভারত বিপুল পরিমাণ গোমাংস রপ্তানি করে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ গোমাংস রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে বুলডোজার অভিযান চালানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড মুসলিম উম্মাহর চেয়ারম্যান ডা. ফরিদ আহমেদ খান। তিনি বলেন, ভারতের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে মুসলমানদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘ মুসলিম শাসনামলেও সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের নজির ছিল না।
উর্দুভাষী মাইনরিটি মুসলিম নেতা আফজাল ওয়ার্সি বলেন, উপমহাদেশের বিভাজনের পর উর্দুভাষী মুসলমানদের পরিচয় ও নাগরিক অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংকট চলছে। তিনি এ পরিস্থিতিকে “ঐতিহাসিক বঞ্চনার ধারাবাহিকতা” বলে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে নিরাপদ খাদ্য চাই এর চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় সিএইচটি সম্প্রীতি জোট-এর আহ্বায়ক ইঞ্জি. থোয়াই চিং মং শাক বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে এবং সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হবে।
সাংবাদিক অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার আসামে নাগরিকত্ব সংকট ও এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা ও সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
সমাপনী বক্তব্যে মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি এসব ঘটনায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার, কামরুল ইসলাম আলাউদ্দিন, ইঞ্জি. আনোয়ার হোসেন, সেলিম রেজা, মোর্শেদ আলম ও আব্দুল কুদ্দুছসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

