মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নতুন এক বৃষ্টি বলয়ের প্রভাবে দেশজুড়ে বাড়তে শুরু করেছে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত এই বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে আংশিক বৃষ্টি বলয় ‘নির্ঝর’, যার প্রভাবে বুধ ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোর থেকে রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টি নেমেছে, যা মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে বলে আবহাওয়াবিদদের দেওয়া পূর্বাভাসেরই বাস্তব প্রতিফলন।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানান, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে বুধবার থেকে সারাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা আরো বাড়বে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে, পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কয়েকদিনের বিরতির পর সোমবার থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে কমবেশি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ওই দিন সর্বোচ্চ ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয় কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়। এ ছাড়া নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৯০, নওগাঁর বদলগাছী ও নীলফামারীর ডিমলায় ৭৯, ফেনীতে ৬৪, কক্সবাজারে ৫৪ এবং রাজধানীতে ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। সেদিন সারাদেশেই কমবেশি বৃষ্টি হলেও চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে প্রবণতা ছিল তুলনামূলক বেশি।
বৃষ্টি হলেও দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের দাপট অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তাদের মতে, সূর্যের আলো এখন খাড়াভাবে বিকিরিত হচ্ছে, আর বঙ্গোপসাগর থেকে আসা দক্ষিণ-পশ্চিম বায়ুর প্রভাবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকায় এই অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হচ্ছে।
বৃষ্টি বলয় সক্রিয় থাকাকালে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের নদ-নদীর পানি বেড়ে অতিবন্যাপ্রবণ নিচু এলাকায় সাময়িক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রোদের পরিমাণ কম থাকবে এবং ৫ ও ৬ আগস্ট সারাদেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে, তবে দক্ষিণাঞ্চলে মাঝে মাঝে রোদের দেখা মিলতে পারে। সাগরে বড় কোনো সিস্টেমের আশঙ্কা না থাকলেও গভীর সঞ্চালনশীল মেঘের কারণে সাময়িক দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে সাগরে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


