ইমাম সম্মেলনে পানিসম্পদ মন্ত্রী

অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম-মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম

অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম-মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম

অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও নৈতিকতাসম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণে ইমাম ও মসজিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মসজিদকে শুধু নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা ও অপরাধ প্রতিরোধের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সোমবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সেমিনার হলে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘অপরাধমুক্ত সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ইমাম ও মসজিদের ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ও কামরুজ্জামান রতন এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া।

সংগঠনের মহাসচিব মুফতি আকরাম হোসাইন, মুফতি সাইফুল্লাহ নোমানী ও মাওলানা আব্দুস সালামের যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন, মাওলানা খলিলুর রহমান নেছারাবাদী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আজহারুল ইসলাম, মুফতি শরীফুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, মাওলানা সালমান আহমাদ, মাওলানা আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, মাওলানা আবু মুহাম্মদ রাহমানী, মুফতি লুৎফর রহমান ফরায়জী, মুফতি মাসুম বিল্লাহ, মাওলানা আব্দুল আউওয়াল, মাওলানা আফসার মাহমুদ, ড. হারুনুর রশীদ, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি আদনান মাসঊদ, মাওলানা কাজী মামুনুর রশীদ খান ইউসুফী, মাওলানা আব্দুল গাফফার, মুফতি জুনায়েদ আহমাদ, মুফতি রাকিব উদ্দীন, মুফতি ইবরাহীম খলীল, মাওলানা আব্দুর রহমান বেতাগী, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ ফয়াজী, মাওলানা ফশজুল্লাহ বিন মুখতার, মাওলানা মঞ্জুরুল হাসান নাদিম, মুফতি সুলতান আহমাদ, মাওলানা ফয়সাল হাবিবীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ইমাম-খতিবরা।

বক্তারা বলেন, সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, কিশোর অপরাধ, পারিবারিক অশান্তি ও নানা ধরনের নৈতিক অবক্ষয় ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে ইমাম-খতিবরা জুমার খুতবা, ওয়াজ-নসিহত ও নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আল্লাহভীতি, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে পারেন।

তারা আরো বলেন, কোরআন-সুন্নাহর আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের চরিত্র গঠন করা সম্ভব। একজন ইমাম তার এলাকার মানুষের নৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব দিতে পারেন। তাই ইমামদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, সামাজিক মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মসজিদকেন্দ্রিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সম্মেলনে বক্তারা দেশের প্রতিটি মসজিদকে সমাজ সংস্কার ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, অশ্লীলতা ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ইমাম-খতিবদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা অপরাধমুক্ত ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ইমাম-খতিবদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন