নেই কোনো ভিড়। হাঁকডাকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা। সময়ের সঙ্গে সতেজতা হারাচ্ছে বাহারি ফুল। আর এসবে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ব্যবসায়ীদের কপালে। ভালোবাসার দিনে কোটি টাকার ফুল বিক্রির কথা থাকলেও এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এমনটিই জানিয়েছেন রাজধানীর ফুল ব্যবসায়ীরা।
তারা বলছেন, অতীতের মতো বিক্রির আশায় বাহারি ফুলের পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। কিন্তু এবার ক্রেতা নেই বললেই চলে। ফলে বড়সড় লোকসানের আশঙ্কা করছেন অনেকে।
ব্যবসায়ীরা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে দায়ী করলেও ক্রেতাদের দাবি দাম অন্য বছরের তুলনায় বেশি। এজন্য এ বছর একাধিক ফুল না নিয়ে অতি প্রয়োজনীয়টাই নিচ্ছেন।
রাজধানীর শাহবাগ ঘুরে দেখা যায়, প্রকারভেদে একটি গোলাপের দাম ৩০-৫০ টাকা, জিপসি ফুল ৩০ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ৩০-৪০ টাকা, গাঁদা ফুলের মালা ৪০-৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। দোকানিরা হাঁকডাক দিয়েও পাচ্ছেন না ক্রেতা। কেউ কেউ দরকষাকষি করে না কিনেই চলে যাচ্ছেন।
আহসান হাবিব নামে এক ক্রেতা জানান, ‘গত বছর করে সব ধরনের ফুল নিয়েছিলাম ১৮০-২০০ টাকায়। কিন্তু এবার চাওয়া হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা। ফুলের বাজারে আগুন বললে ভুল হবে না। তবু না কিনে পারছি না। ভালোবাসা দিবস বছরে একবারই আসে। তাই টাকার দিকে চাইছি না।’
ফুল ব্যবসায়ী আবু জাফর বলেন, ভালোবাসা দিবস সামনে রেখে প্রতি বছর আমাদের একটি লক্ষ্য থাকে। ঈদের আমেজ শুরু হয় ফুল ব্যবসায়ীদের মনে। তবে এবার তেমন কোনো বিক্রি নেই। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বিক্রি কমেছে। এমনটা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল।
শাহবাগ বটতলা ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের সমিতির আওতায় ৫১টি দোকান রয়েছে। গত বছর আমরা পাঁচ-ছয় কোটি টাকার ফুল বিক্রি করেছিলাম। আমি নিজেই ১৫-২০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছি। কিন্তু এবার অর্ধেকও হবে না।
ফুলের দাম নিয়ে তিনি বলেন, দাম কম বেশ আগের মতোই রয়েছে। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি অগোছালো হওয়ায় কেউই ফুল কেনার আমেজে নেই। এর প্রভাব আমাদের ফুল বিক্রেতার ওপর পড়ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

