ঢাকার বাইরের জেলা থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে রাজধানীতে মাদকের চালান আনার নতুন নয়, কিন্তু উদ্বেগজনক প্রবণতা আবারও সামনে এলো যাত্রাবাড়ীতে পরিচালিত অভিযানে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বিশেষ অভিযানে ৮ হাজার পিস অ্যামফিটামিনজাত ইয়াবাসহ ক্ষুদ্র-নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আত্মীয়স্বজন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে ডিএনসি। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীমুখী বাসে মাদক পরিবহনের একাধিক ঘটনা সামনে আসায় আন্তঃজেলা পরিবহনে নজরদারি আরও জোরদারের দাবি উঠেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ জানান, ধানমন্ডি সার্কেলের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন, রাঙামাটি থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বহন করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পর যাত্রাবাড়ী থানার আওতাধীন মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে রাঙামাটি থেকে আসা সৌদিয়া সিল্কি পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে চার যাত্রীর কাছ থেকে মোট ৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—কেরামা চাকমা (৩৮), লাউমং চাকমা (৪৪), লেড়াইয়া চাকমা (২৪) এবং চামিয়া চাকমা (২৯)।
ডিএনসি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পরস্পরের আত্মীয় বলে জানিয়েছেন। তারা একে অপরের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন বলেও তদন্তকারীদের কাছে তথ্য দিয়েছেন। তবে এই বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই চালানটি রাজধানীতে কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, এর সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত কি না এবং এর পেছনে বড় কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জব্দ করা মোবাইল ফোন, যোগাযোগের তথ্য এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে প্রবেশের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নিয়মিত মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। চলতি মাসেও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ একাধিক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
উদ্ধার করা ইয়াবা ও গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ডিএনসি বলেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

